আইসিডিডিআর,বির গবেষণা

যক্ষ্মা নিয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন না ৬৯% নার্স

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ০১:৪৮ এএম

দেশের ৯৩ শতাংশ চিকিৎসক ও ৩১ শতাংশ নার্স ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন। এ ব্যাপারে মোটামুটি জ্ঞান রাখেন ৭ শতাংশ চিকিৎসক ও ৬৯ শতাংশ নার্স। তবে যক্ষ্মা রোগীদের ৮২ শতাংশই রোগটি সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান রাখেন। সরকারের জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান-নিপসমের শিক্ষার্থী মমতাজ বেগমের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এই গবেষক নিপসমের স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং রোগীদের মাঝে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মাবিষয়ক জ্ঞান ও মনোভাব জানতে এই গবেষণা করেন। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়সীমার মধ্যে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তিনি একটি ক্রস-সেকশনাল পদ্ধতিতে গবেষণাটি করেন। এই গবেষণায় ২৩২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যার মধ্যে ১০১ জন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও ১৩১ জন রোগী।

গতকাল বৃহস্পতিবার আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) অ্যালায়েন্স ফর কমব্যাটিং টিবি ইন বাংলাদেশ (এসিটিবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত মোট চারটি গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কার্যকরভাবে যক্ষ্মা মোকাবিলায় স্কিনিং, যক্ষ্মা রোগী ফলো-আপ, ভার্চুয়াল কেয়ার ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রশিক্ষণের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

গবেষকরা বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন। করোনার কারণে যক্ষ্মা স্ক্রিনিং উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়েছে। লকডাউনের কারণে সৃষ্ট পরিবহন সংকট এবং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবাদানকারীর অভাব, কাজের চাপ বৃদ্ধি এবং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়গুলো স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গবেষক ডা. আজিজুর রহমান শারাক ঢাকায় বসবাসকারী ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগীদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ওষুধ সংবেদনশীল এবং ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাবের ওপর তার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। তার গবেষণায় বলা হয়, ৯ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারের সদস্যদের যক্ষ্মার লক্ষণ ছিল এবং পরবর্তীকালে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ জনের যক্ষ্মা ধরা পড়ে। তিনি ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগীর পরিবারের ১৭৮ জন সদস্যকে স্ক্রিনিং করে ১ জন যক্ষ্মা রোগী পেয়েছেন।

ঢাকায় শিশু যক্ষ্মা শনাক্তকরণের প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে গবেষণা করেন ডা. মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন। তার গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক ও প্রচলিত স্টিগমা, ভুল ধারণা এবং শিশু যক্ষ্মা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব, অপ্রতুল কনটাক্ট ইনভেস্টিগেশন, রোগ নির্ণয়ে সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবাদানকারী এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা শিশু যক্ষ্মা শনাক্তকরণের বাধাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ঢাকার নির্দিষ্ট এলাকায় ফুসফুসীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ পরিষেবার ওপর কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব বিষয়ক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন ডা. ফারিহা আলম মিহিকা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। ইউএসএআইডির জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মিরান্ডা বেকমেন, আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ ও সিনিয়র ডিরেক্টর ড. ফেরদৌস কাদরী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত