সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরাতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ০১:৫১ এএম

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার সংকট নয়, এটিকে বৈশি^ক সংকট উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এ সমস্যার সমাধানে সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করতে হবে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে সরকার এই সংকট সমাধানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পথ জটিল করেছে।’

রোহিঙ্গা সংকটের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার সংকট নয়। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। দূঃখের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার  রোহিঙ্গা সংকট যে একটি বৈশ্বিক সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সে বিষয়ে যথাযথভাবে উদ্বুব্ধ কিংবা কনভিন্স করতে পারেনি। আর এ কারণে  বিশ্বের অন্যান্য মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেভাবে সাড়া দেয় বা তৎপর হয়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তারা সেভাবে এগিয়ে আসেনি। এটা নিঃসন্দেহে সরকারের চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই না।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার মূল চ্যালেঞ্জ তথা নিরাপদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াটি একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকার তাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংকটকে এখন আর গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না আন্তর্জাতিক বিশ্ব। অথচ ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এই পটভূমিকায় বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি এখন আগের চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন ‘ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের  দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক মহল আরও কার্যকরী ও ফলপ্রসূ চাপ না দিলে  রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠানো সম্ভব নয়। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে আরও জোরালো রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর প্রচ- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর সংকট সমাধানে জটিল করে তুলেছে : মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় না করে সরকারের একক সিদ্ধান্তে বঙ্গোপসাগরের মুখে দ্বীপ ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর কিয়দংশ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নাখোশ করেছিল। ওই সময় জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংগি লি এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘এই স্থানান্তরে মিয়ানমার এমন বার্তা পেতে পারে যে বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাদের ফেরত না নিলেও চলবে।’ সাংবাদিক সম্মেলন করে তখন বিএনপিও ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থানান্তরের বিরোধিতা করেছিল।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনকে শুধুমাত্র কাগুজে চুক্তিতে বন্দি না রেখে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তির কার্যকর প্রয়োগের পথে এগুতে হবে। কারণ এই সংকট শুধু বাংলাদেশের একার নয়, এটা বৈশি^ক সংকট। এই সংকট সমাধানে জাতিসংঘ, আঞ্চলিক সংস্থা, বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর স্ব স্ব ভূমিকা সুনিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে জাতিসংঘসহ আঞ্চলিক মহলকে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতার কথা উপলব্ধি করাতে হবে।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ  থেকে বিচ্ছিন্ন, আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল এবং স্বৈর সরকার হিসেবে পরিচিত একটি ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের পক্ষে রোহিঙ্গা সমস্যার মতো জটিল ও আন্তর্জাতিক সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। কেবলমাত্র একটি জনবান্ধব গণতান্ত্রিক সরকারের দ্বারাই এটা সম্ভব, যা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে অনুপস্থিত।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সামাজিকভাবে বড় ধরনের ভয়ের কারণ আছে। যেটা আপনারা বুঝতেই পারছেন। এই সরকারের চরম ব্যর্থতা যার মূল হচ্ছে, তাদের  নেগোসিয়েটিং ক্যাপাসিটি নেই। ওরা একটি অনির্বাচিত, অবৈধ, দখলদার সরকার হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে যখন নেগোসিয়েট করবে জাতির সমর্থন যেখানে থাকবে না সেই নেগোসিয়েশন সফল হতে পারে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত