'ছোট পোশাক' বিতর্ক : উত্তপ্ত সোশাল মিডিয়া

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ০৫:২২ পিএম

সম্প্রতি নারীর পোশাক প্রসঙ্গে উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ সমর্থন করে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন শিক্ষার্থী। আদালতের ওই মন্তব্যকে অভিবাদন জানিয়ে পোশাকের নামে পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানিকারকদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এই দাবি করা হয়।

গতকাল এই সংবাদ ও এর ছবিগুলো গণমাধ্যমের প্রকাশ হওয়ার পর ফুঁসে ওঠে সোশাল মিডিয়া। ছবিগুলোকে ভয়ংকার রকমের নারীবিদ্বেষী ছবি বলে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে সোশাল মিডিয়ার নারী ব্যবহারকারীরা তো যা-তা বলছেন। তারা এ ধরনের ব্যানারকে নারীর প্রতি চরম অবমানানকর বলছেন।

তবে অনেক সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারী বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। তাদের মন্তব্য, বাঙালি সংস্কৃতির সাথে তথাকথিত পোশাকগুলো বেমানান এবং পাবলিক প্লেসে এ ধরনের পোশাক না পরাই ভালো।

'ছোট পোশাক পরে বিপরীত লিঙ্গকে সিডিউস করা বন্ধ করুন' এবং 'ছোট পোশাক নারীকে বিজ্ঞানী বানায় না পণ্য বানায়' ব্যানার দুটি ছিল সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু।  

অনেকে আবার এ ধরনের বিষয়কে 'নেক টার্নিং' ইস্যু বলেও মন্তব্য করছেন। তারা বলছেন, দেশে চলমান নানা সমস্যা থেকে জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতেই এ ধরনের ইস্যুর আমদানি।

গতকাল ওই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য ছিল- 'পোশাকের স্বাধীনতার নামে বর্তমানে আমাদের সমাজে যা হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে উচ্চ আদালতে এত সুন্দর ও গঠনমূলক পর্যবেক্ষণ আমাদের সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।'

আরেকজন বলেন, 'বাকস্বাধীনতার অর্থ যেমন অন্যকে গালি দেওয়া নয়, ঠিক তেমনি পোশাকের স্বাধীনতার অর্থ অন্যকে বিরক্ত করা নয়। পোশাকের স্বাধীনতার নামে এমন পোশাক পরা কখনোই ঠিক না, যা পাবলিক নুইসেন্স বা গণ-উপদ্রব বা বিরক্তি তৈরি করে। পাবলিক নুইসেন্স এক ধরনের ক্রাইম। প্রাইভেট প্লেস আর পাবলিক প্লেসের ড্রেস কখনো এক না। অনেকে পোশাকের স্বাধীনতার নামে পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানি করে পাবলিক প্লেসে মানুষকে কষ্ট দেয়, এটা অবশ্যই অন্যায়। বাড়িতে সেই স্বাধীনতা পালন করুক, পাবলিক প্লেসে সবার মূল্যবোধ মেনেই তাকে চলতে হবে।'

অংশগ্রহণকারী অপর এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য, পাবলিক প্লেসে পোশাকের স্বাধীনতার আড়ালে অনেকের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গকে সিডিউস (যৌন প্ররোচিত) করার চেষ্টা দেখা যায়। পাবলিক প্লেসে কাউকে সেক্সুয়ালি সিডিউস করা মানসিক নির্যাতনের শামিল। একজনকে মানসিক নির্যাতনের অধিকার অবশ্যই অন্যজনকে দেওয়া হয়নি।'

প্রসঙ্গত, ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ১৮ মে নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের কারণে গালিগালাজ ও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা হলে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করে। তরুণীকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মার্জিয়া আক্তার ওরফে শিলাকে ৩০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। গত মঙ্গলবার শিলার জামিন আবেদনের শুনানিতে উচ্চ আদালত এ বিষয়ে কথা বলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত