গরমে অনেকেই হাতাকাটা পোশাক পরছেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না কাকে কেমন হাতাকাটা পোশাকে মানাবে। নানা ধরনের হাতাকাটা পোশাকের আদ্যোপান্ত জানালেন মোহসীনা লাইজু
শর্ট বা লং হাতার ফ্যাশন ঘুরেফিরে সব সময়ই; কিন্তু হাতাকাটার ফ্যাশনটা জেঁকে বসে গরমেই। গরমের সময় পোশাকে আরাম খুঁজতে হাতাকাটা পোশাকের কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া কোনো উপলক্ষ ও আয়োজনে হাতাকাটা পোশাকের মাধ্যমে সাজে জমকালো ভাব ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। কারণ স্বস্তি মেলে আর ফ্যাশনটাও থাকে ষোলোআনা।
পোশাকের ধরন
ফ্যাশন হাউজগুলোতে গরমের সময়ই হাতাকাটা টপস, ফতুয়া, কুর্তি বেশি দেখা যায়। আবার হাতাকাটা রেডিমেড ব্লাউজ পাবেন সারা বছরই। এবছর দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো নানা কাটের হাতাকাটা কামিজ পাবেন। গরমের সময় পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন এ-ধরনের কামিজ। লং বা শর্ট যেকোনোটাই হতে পারে। বিশেষ করে গরমের পার্টি বা অনুষ্ঠানে জমকালো বা ভারী পোশাকে অস্বস্তি হয়। সে ক্ষেত্রে জমকালো হাতাকাটা কামিজ, ব্লাউজ এমনকি গাউন বেছে নেওয়া যায়।
বাজারে বিভিন্ন রকমের হাতাকাটা কামিজ থাকলেও মোটামুটি তিন ধরনের হাতাকাটাই জনপ্রিয়। নরমাল সিøভলেস, ম্যাগি হাতা আর হল্টার নেক বেশি চলছে। নরমাল স্লিভলেসের নকশা একেবারেই সাধারণ, শুধু হাতা থাকে না। আর ম্যাগি হাতা হচ্ছে হালকা হাতা, কাঁধ থেকে সামান্য একটু বাড়ানো থাকে মাত্র। তবে ঠিক হাতা বলা যায় না, কাপড়ের বাড়তি অংশ আর কি। হল্টার নেকে হাতার অস্তিত্ব নেই। বুকের ওপর থেকে দুটি ফিতা চলে যায় গলার পেছনে। শুধু ফিতা বেঁধে রাখলেই হয়। এ তিন হাতাকাটার বাইরেও আছে স্প্যাগেটি, ক্যামিসোল, টিউব ও কাট অব টপস। হাতাকাটা কামিজের সঙ্গে পালাজ্জো, জিন্স কিংবা লেগিংস সবটাই মানিয়ে যাবে। আর ওড়না কিংবা কটি পরলে ভালো লাগবে।
ডিজাইনারদের বয়ান
হাতাকাটা কামিজের কাটছাঁটে আনা হয়েছে নানা বৈচিত্র্য, নতুনত্ব দেখা যাচ্ছে নকশায়ও। প্রাধান্য পেয়েছে নিরীক্ষামূলক কাজ। যেমনটি বলছিলেন রঙ বাংলাদেশ-এর কর্ণধার ও ডিজাইনার সৌমিক দাস। তিনি বলেন, ‘হাতাকাটা কামিজ তো আগেও ছিল, তবে সেটা ছিল সাদামাটা। নকশায়ও বৈচিত্র্য দেখা যেত না। পোশাকের ফ্যাব্রিকসটাই মূল বিষয় ছিল। আর এখন নকশা ফ্যাব্রিকস ও কাটিং প্যাটার্ন তিনটি সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এখনকার কামিজের ঝুলে ওঠা-নামা আছে। কামিজের পেছনে লম্বা রেখে সামনে খানিকটা খাটো ঝুল, দুই কোনায় বেশি ঝুল, ওভাল আকৃতি, ত্রিভুজ আকৃতি, দুই দিকে কলি দিয়ে মাঝখানে সোজা ইত্যাদি প্যাটার্নে তৈরি হচ্ছে। আগে কামিজে পকেটের কোনো বালাই ছিল না। এখন সামনে ভিন্ন রঙের কাপড়ে ছোট্ট এক বা একাধিক পকেট জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘেরও কিছুটা কমে এসেছে, তবে কুঁচির ব্যবহার আছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের লেয়ার। তেমনি স্লিভে পাইপিন ও লেসও দেখা যাচ্ছে।’
কামিজ ও কুর্তাতে গরমের কথা মাথায় রেখেই আরামদায়ক ফ্যাব্রিকস ব্যবহার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুতির পাশাপাশি লিনেন, হাফ সিল্ক, ধুপিয়ান ও বলাকা সিল্ক কাপড়। নকশায় ফ্লোরাল প্রিন্ট, টাইডাই ও গামছা মোটিফের ব্যবহার বেড়েছে। সুই-সুতার কাজও যেমন আছে তেমনি ডিজিটাল প্রিন্টও দেখা যাচ্ছে। তেমনি ব্লাউজেও আছে সুতির এক রঙের ওপর নানা মোটিফের স্ক্রিন প্রিন্ট। আবার সুই-সুতার কাজও পাবেন ব্লাউজের পিঠে। অনলাইন ভিত্তিক ফ্যাশন হাউজগুলোতে হাতাকাটা প্যাচওয়ার্কের নানা ধরনের ব্লাউজ পাবেন। এই ধরনের ব্লাউজ তাঁতের এক রঙের শাড়িতে দারুণ মানিয়ে যাবে।
ফ্যাশন হাউজ দেশীয়র ডিজাইনার আলেয়া মাহামুদ বললেন, ‘আগে কামিজের বুকে কিংবা পিঠেও হরেক রকমের ব্লকের ছাপ দেখা যেত। এখন ব্লক একেবারে উঠে গেছে তা বলা যাবে না। তবে বেশির ভাগ কামিজে ব্লকের বদলে এম্ব্রয়ডারির ব্যবহার করা হয়েছে।’ ফ্যাশন ব্যান্ড ভূমিজ-এর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার মাঈন উদ্দিন ফুয়াদ বললেন, ‘সেমিলং ও ফ্রক আকৃতির কামিজের ট্রেন্ড চলছে এখন। কলিদার এই কামিজগুলো তৈরি করা হয়েছে নানা ছাঁটে। প্রতিটি কলিতে ভিন্ন রং ও নকশার ব্লকপ্রিন্টের ব্যবহার এনেছে অভিনবত্ব। কম নকশার কামিজে বোতাম ও ব্রোচের ব্যবহার করে আকর্ষণীয় করা হচ্ছে। গলায় হালকা কাজও রয়েছে। গলার নিচে কামিজের বডির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরপর দু-তিনটি ভিন্ন রঙের কাপড় ব্যবহার করে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। এক রঙের পাশাপাশি কয়েকটি রঙের সমন্বয়ে বর্ণিল হয়ে উঠেছে কামিজ। গোল গলা, ত্রিভুজাকার গলা, হাইনেক বা পাঞ্জাবি কলারই সাধারণত ব্যবহৃত হয় হাতাকাটা কামিজে।’ হাইনেক, রাউন্ড ও ভি-গলার কামিজও আছে। হাতা থাকলে যেখানে জোড়া দেওয়া হতো, সেখানে লেস-ফিতার বর্ডার কিংবা ভিন্ন রঙের চিকন পাইপিন জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
কেমন হাতাকাটা পোশাক পরবেন
যাদের হাতের গড়ন ভারী, তারা হাতাকাটা কামিজের কাঁধের অংশ একটু চওড়া করে নিন। সঙ্গে পেছনের দিকে ওঠানো গলা থাকলেও ভালো। চাইলে কাঁধ থেকে এক বা দেড় ইঞ্চি পরিমাণ চওড়া ছোট হাতাও পরতে পারেন। যারা মাঝারি গড়নের, তারা কাঁধ উঁচু ও বন্ধ গলার পোশাকটি হাতাকাটা পরতে পারেন। যাদের হাতের গড়ন বেশি চিকন, তারাও চওড়া কাঁধের হাতাকাটা কামিজ বা ব্লাউজ পরুন।
কোথায় পাবেন
দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে নানা কাটের হাতাকাটা পোশাক পাবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শপিংমলের ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের শোরুমে হাতাকাটা পোশাক পাবেন। এছাড়া অনলাইন ফ্যাশন হাউজগুলোতে পাবেন হাতাকাটা পোশাক।
জেনে রাখুন
হাতাকাটা পোশাক পরলে হাত যেন লোমহীন, নরম কনুইয়ের হয়। হাতাকাটা কামিজ পরার আগে হাতের জন্য বাড়তি পরিচর্যার দরকার। সপ্তাহে অন্তত এক দিন পুরো হাতের যতœ নিন। রোদে হাতাকাটা পরলে সার্নবান হয়। তাই হাতে সানস্ক্রিন মাখতে হবে। আবার হাত ও বাহুতে রোদে পোড়া দাগ থাকলে কাগজি লেবু খানিকক্ষণ ঘষে ধুয়ে ফেললে উপকার পাবেন। হাতাকাটা পোশাক পরার আগে অবশ্যই ওয়াক্স করে নিন। হাতের ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে ফেয়ারপলিশও করাতে পারেন। মনে রাখবেন যেকোনো অনুষ্ঠানে হাতাকাটা কামিজ পরলে মুখের সাজের সঙ্গে হাতকেও খানিকটা সাজাতে হবে। আর হাতাকাটা পোশাক ঢিলেঢালা না পরে কিছুটা বডি ফিটিং পরলে ভালো দেখাবে।
