এশিয়া কাপের লক্ষ্যটা দেশে থাকতে লুকিয়েই রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান। দুবাই গিয়ে একটু খোলাসা করেছেন। তবুও নিজেদের শিরোপা জয়ের কথা সরাসরি বলতে পারেননি । কীভাবে পারবেন! গত চার আসরে তিনবার ফাইনালে গিয়েও হাত শূন্য। ধারাবাহিক সেই হতাশা এবারও ভয় দেখায়। তাই বলা যায় না লক্ষ্য, দেওয়া যায় না হুঙ্কার। তবে ক্রিকেট তো অনিশ্চয়তার খেলা। এখানে যেকোনো কিছুই হতে পারে। শুধু পরিকল্পনা মতো খেলে এগিয়ে গেলে ক্রিকেটে সফলতা আসে। দুবাইতে ১৫তম এশিয়া কাপে নতুন শুরুর স্বপ্ন নিয়ে সেই লক্ষ্যটা রাখছে বাংলাদেশ। এরপর সফল হওয়ার অপেক্ষা। এশিয়ার মর্যাদার আসর বাংলাদেশের জন্য বরাবরই বিশেষ। ২০১২ সাল থেকে এই আসর বেদনারও। সেবার মাত্র চার রানের হারে হৃদয় ভাঙে। এই ট্রফির লড়াইটা হতো শুধুই ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মধ্যে। সেবার (২০১২) এর ব্যতিক্রম করে আবির্ভূত হয় বাংলাদেশ। প্রথম এশিয়ান ট্রফির সুবাস যখন মাতিয়ে রেখেছে গোটা দেশকে তখনই নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনার সাক্ষী হতে হয়। সেই থেকে বারবার লড়াইয়ে ফিরে আসার উদাহরণও তৈরি করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু বরাবরের মতো হতাশাই সঙ্গী। সবশেষ ২০১৮ সালে এই দুবাইতেই শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। অথচ ২০১৬ সালের মতো এবারও ভারতের কাছে হারাতে হয় ট্রফি।
অতীত মনে রেখে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার সুযোগ এবার নেই। বিশ্বকাপের বছর বলে আসর হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। গত চার বছরে যেখানে বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফটা পড়তির দিকে। যাওয়ার আগে টানা দুটো সিরিজ হারতে হয়েছে উইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের কাছে। এর আগে আফগানদের সঙ্গে ড্র, পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ হার এবং তার আগে বিভীষিকার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশকে এখনো পোড়াচ্ছে। তাই সামনের বিশ্বকাপ ভাবনায় রেখে এবার নতুন পরিকল্পনা ও মানসিকতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় সাকিবদের। তাই এ এশিয়া কাপকে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। তবুও দুবাইতে বাংলা টাইগার্সের অধিনায়কত্ব পাওয়ার দিনে সাকিব জানালেন নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখতে চান এবার। সেই চ্যাম্পিয়ন কেÑ এর উত্তরে বাংলাদেশের নাম বলেননি, মুখে আনেননি আফগানিস্তানের নামও। ভিন্নভাবে বলেন, ‘ফাইনালে যেকোনো দলকে পেতেই ভালো লাগবে, যদি আমরা ফাইনালিস্ট হই। আশা করছি এবার কোনো নতুন দল শিরোপা জিতবে। ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা তো অনেকবারই জিতেছে। আশা করছি এবার নতুন দলের হাতে শিরোপা উঠবে।’
তবে এখনই ফাইনালে চোখ না দিয়ে আগে গ্রুপপর্ব পার হওয়ার চেষ্টা সাকিবের। তাই প্রথম ম্যাচ জিতে শুভ সূচনা করতে চান, ‘এশিয়া কাপের জন্য প্রস্তুত হতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আসলে কখন কী হয় তা তো বলা যায় না, সবসময়ই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হয়। আমরা তাই নিশ্চিত করে বলতে পারি না কে জিতবে কে হারবে। এসব টুর্নামেন্টে দ্রুত ছন্দ খুঁজে পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রথম ম্যাচ জিততে মুখিয়ে আছি, সেটা হলে পরবর্তী সবই ইতিবাচক হবে আশা করছি।’
বাংলাদেশের গ্রুপে আছে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এ দুই দলই টি-টোয়েন্টিতে বিপজ্জনক। আফগানদের সঙ্গে দুই সিরিজ আগে ১-১ ড্র হলেও এবার ভেন্যুর কারণেই পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই রশিদ খান-মোহাম্মদ নবিদের আরও একবার হারানো যাবে এ কথা বলা যায় না। তার ওপর একমাত্র দল হিসেবে ইনজুরি ছাড়াই আসরে এসে সেরা ডার্কহর্সের তকমাও বাগিয়ে নিয়েছে আফগানরা। রশিদ খানের সঙ্গে আছেন মুজিব উর রহমান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বে দুজনই সেরা বোলার।
এর সঙ্গে দলের ব্যাটার নাজিবুল্লাহ জাদরানের একটি উক্তি বাংলাদেশকে ছোট করছে। কাল সংবাদ সম্মেলনে জাদরান জানান, বাংলাদেশের চেয়ে শ্রীলঙ্কা প্রতিপক্ষ হিসেবে ভালো ও শক্ত। দলটির মূল শক্তি স্পিন আক্রমণ।
শ্রীলঙ্কার শক্তি এবার স্পিনে। এই আসরটি হওয়ার কথা ছিল তাদের মাঠেই। আয়োজক স্বত্ব থাকলেও ঘরের মাঠে না খেলার দুঃখ পোড়াবে লঙ্কানদের। তবে দলের ভারসাম্য ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস শক্তি জোগাবে শ্রীলঙ্কাকে। দলের মূল ভরসা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাহেশ থিকসানা। আইপিএল খেলা এ দুই বোলার দলটির ব্যাটিংয়ের অনভিজ্ঞতার অভাব পুষিয়ে দেবেন বিপক্ষকে কম রানে আটকে দিয়ে।
এশিয়া কাপের দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান আছে হতাশায়। দুই দলই তাদের সেরা দুই পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে পাচ্ছে না। টুর্নামেন্ট শুরুর পরদিনই ২৮ আগস্ট এ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে মূল পেসারদের না থাকা ভোগাবে দুই দলকেই। পাকিস্তানের বোলিং শক্তি তাই অনেকটাই খর্ব। অনভিজ্ঞ পেস আক্রমণের ভার নিতে হবে শাদাব খানকে। তবে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ব্যাটিংলাইন ঠিকই থাকছে পাকিস্তানের। এদিকে ভারতের বুমরাহ না থাকলেও চিন্তাটা বিরাট কোহলিকে নিয়ে। অফফর্মে থাকা ব্যাটিং সম্রাটের দুই সিরিজ পর মাঠে ফেরা এই আসর দিয়ে। এবার কোহলির ব্যাটে রান দেখতে চাইবে দল। তবে রোহিত, রাহুল, পান্ডিয়া, সূর্যকুমার, কার্তিকদের নিয়ে আরও একবার আসরের ফেভারিট ভারতই।
