ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলে, মার্শেই শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এক অপূর্ব স্থাপত্য লুকিয়ে আছে। ১৯৮৫ সালে অঁরি কুসকে নামের এক ডাইভার হঠাৎ করেই পানির নিচে একটি গুহা আবিষ্কার করে ফেলেন, যা নিয়ে হইচই পড়ে যায়। তার নামানুসারে গুহাটির নাম এখন অঁরি কুসকে গুহা। এটিই পানির নিচে পাওয়া একমাত্র গুহা, যেখানে প্রাগৈতিহাসিক যুগের পাথরচিত্র আছে; যা ৩৩ হাজার বছর পুরনো। তখন গুহার প্রবেশপথ সমুদ্র থেকে অনেক ওপরে ছিল। ইতিহাস সংরক্ষণে এখন মার্শেইয়ের ভিলা মেডিটেরানেতে এই গুহাটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
কুসকে মেডিটারেনে মিউজিয়ামের পরিচালক ফ্রেদেরিক প্রাদ বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথমত, একটা প্রাগৈতিহাসিক গুহাকে ভবনে রূপান্তর করা। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি খুবই জটিল স্ট্যালাকটাইট গুহা, যেখানে ক্যালসিয়াম লবণের কলাম ও দণ্ড রয়েছে, তাও সিলিং খুব নিচে। আমরা একটা গোলাকার চলার পথ বানিয়েছি, যেন সবাই এখানে ঢুকতে পারেন।’ তিনি জানান, দুই বছর ধরে গুহাটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এতে বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও কারুশিল্পের প্রায় ২৫০ জন লোক কাজ করেছেন। সবচেয়ে কঠিন ছিল পাথরচিত্রগুলো নকল করা।
তিনি জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ফলে হয়তো অঁরি কুসকে গুহার মুরালগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কৃত্রিমভাবে তৈরি গুটি প্রায় ১৭০০ বর্গমিটার এলাকায়, যা মূল গুহার তিন ভাগের দুই ভাগ, এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে।
ফ্রেদেরিক প্রাদ বলেন, এটা একটা প্রাগৈতিহাসিক স্থান। একটা মিরাকল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, লবণাক্ততা, প্লাস্টিক দূষণ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার কারণে এটা অনেক আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। তাই এটা অবিশ্বাস্য। আসল অঁরি কুসকে গুহাটি এখন একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষিত এলাকা। হয়তো আর ঢোকা যাবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে এটি। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই গুপ্তধনটিকে একুশ শতকের শেষ নাগাদ হয়তো পানি পুরোপুরি গিলে খেয়ে ফেলবে।
