পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল নানাভাবে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তারা সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজকে আড়াল করতে চায়। জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে অপপ্রচারকারী চক্রকে মোকাবিলা করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নগরীর রিকাবীবাজারে কবি নজরুল মিলনায়তনে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
ড. মোমেন বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আদর্শ রেখে গেছেন তার কোনো মৃত্যু নেই। বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব। তিনি বাঙালির হৃদয়ে সবসময় বেঁচে থাকবেন। বঙ্গবন্ধু কেবল আমাদের নয়, বিশ্বের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু বিশে^র ১২৬টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেন। এই সময়ে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিশ্বের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সদস্য হতে পেরেছিল বাংলাদেশ। আর মাত্র ৯ মাসে শাসনতন্ত্র তৈরি হয়েছিল। যেখানে আমেরিকার লেগেছে ১৩ বছর, পাকিস্তানের ৯ বছর। এই দ্রুত সময়ে এতসব অর্জন কেবল বঙ্গবন্ধুর জন্যই সম্ভব হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধকালীন এই বিরূপ পরিস্থিতিতেও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমরা অনেক ভালো আছি। জনগণের সামনে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরতে হবে। যাতে অপপ্রচারে কেউ বিভ্রান্ত না হয়।’
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. মোমেন বলেন, ‘দেশের অনেক অর্জন আছে যার সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত। সেই ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে কাজ করতে হবে। সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো বদনাম না হয়। বেশি বেশি বই পড়ুন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকে আরও ভালো করে জানতে ও তার নীতি আদর্শ বুঝতে হলে তার লেখা প্রত্যেকটি বই মনোযোগ দিয়ে পড়তেই হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা পৃথিবীর রাজনীতির ইতিহাসে এক করুণ অধ্যায়। এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হয়ে দেশকে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিচ্ছেন। দেশ দ্রুত উন্নত হচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশোয়ার জাহান সৌরভের সভাপতিত্বে ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ, মহানগরের সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, সুজাত আলী রফিক, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রণজিত সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমদ সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা জুমাদিন আহমেদ, জাহিদ সারওয়ার সবুজ, জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফছর আজিজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু প্রমুখ। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহম।
