শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য কিছু অপশক্তি মাঠে নেমেছে। তারা এখনো নানাভাবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান ও দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক সুলতানা শফির সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও উপকমিটির সদস্য সচিব মেহের আফরোজ চুমকি, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম প্রমুখ।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেদিন হালবিহীন নৌকা পরিচালনার আত্মিক ও মানসিক শক্তি কেউ দেখাতে পারেনি। আমি কাউকে ছোট করতে চাই না। তবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের কর্মীরা কখনো মাথা নোয়ায় না। কর্মীরাই এসে হাল ধরে এটা তারা বারবার প্রমাণ দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আজকে যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তখন কিছু অপশক্তি মাঠে নেমেছে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য। শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য জনগণের মাঝে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে।’
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার একটি হরতাল পালন হয়ে গেল বাংলাদেশে, কেউ টের পেল না। রাস্তায় যানজট। আমাদের খুব সতর্ক হতে হবে। ওরা আবার নেমেছে। ওরা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেবে না। সে কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা নেমেছেন। আপনারা পাকিস্তানি প্রেসক্রিপশনে চলছেন। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাড়াতে হবে।’
বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আমাদের সাহসিকতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। সব ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।’
আলোচনা সভায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, ‘বিজয়ের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, পরাজয়ের গ্লানি চিরস্থায়ী। এ পরাজয়ের গ্লানি মোচন করা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার জন্য ৭১-এর পরাজিত শক্তি জাতির পিতাকে হত্যা করে। জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী, ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকা- ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারী, নেপথ্য কারিগর ও পরবর্তীকালে হত্যাকারীদের রক্ষাকারী ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতকদেরও বিচার করতে হবে।’
