২০০ শিক্ষার্থীর জন্য দুই শিক্ষক!

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২২, ০১:২৭ এএম

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হয়েছে ফার্মেসি বিভাগ। প্রতিষ্ঠার চার বছর পার হতে চললেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের অভাবসহ নানা সংকটে জর্জরিত বিভাগটি। এমনকি প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিলের অভাবে বিভাগটির কোনো কোনো ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে বসে পাঠগ্রহণ করতে হয়। এ ছাড়াও বিভাগে খাতা-কলমে ল্যাব (গবেষণাগার) থাকলেও সেখানে নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বছর যাচ্ছে আর তাদের বিভাগে নতুন শিক্ষাবর্ষে যোগ হচ্ছে নতুন ব্যাচ। কিন্তু বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্র্তৃপক্ষ। বিষয়গুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। সমস্যার সমাধানে শিক্ষার্থীরা দ্রুতই বিভাগের সভাপতি ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেবে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইবির ফার্মেসি বিভাগে বর্তমানে চারটি ব্যাচে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০। এই ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন চারজন। কিন্তু গত চার মাস ধরে দুজন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। ফলে শিক্ষক সংকটে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে চারটি ব্যাচের জন্য বিভাগটির শ্রেণিকক্ষ রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে দুটি কক্ষে নেই আবার চেয়ার-টেবিল। ফলে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে বসে পাঠগ্রহণ করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়াও বিভাগে ল্যাব থাকলেও সেখানে নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। ফলে অনেক সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রাংশ এনে গবেষণার কাজ সারতে হয় শিক্ষার্থীদের। মাস দেড়েক আগে বিভাগটির ল্যাবের অবকাঠামো উন্নয়নে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। যে কারণে ল্যাবের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

এসব সমস্যার কারণে সেশনজটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ তারা। এ প্রসঙ্গে বিভাগটির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত দুজন শিক্ষক আমাদের ক্লাস নেন। এ ছাড়াও অন্য বিভাগের কিছু শিক্ষকও আমাদের ক্লাস নিয়ে থাকেন। কিন্তু সেগুলো যথাযথভাবে নেওয়া হয় না। ফলে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি না। এ ছাড়াও শ্রেণিকক্ষগুলোতে আমাদের বসার জন্য চেয়ার-টেবিল নেই। ফলে মেঝেতে বসে আমাদের ক্লাস করতে হয়। এ ছাড়া ল্যাবের কিছু কাজ করতে আমাদের যেতে হয় অন্য বিভাগে কিংবা ঢাকায়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই আমরা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগটির স্নাতক শেষ বর্ষের এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের সমস্যার বিষয়গুলো নিয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার ও উপাচার্য স্যার বরাবর স্মারকলিপি দেব। এভাবে একটি বিভাগ চলতে পারে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আমরা সব শিক্ষাবর্ষ মিলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক অর্ঘ্য প্রসূন সরকার বলেন, ‘আমাদের বিভাগের সব থেকে বড় সমস্যা শিক্ষক সংকট। এর জন্য আমরা কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। অন্য সমস্যাগুলো কিছুদিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। তবে শিক্ষক সংকট নিরসন খুব জরুরি।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইউজিসিকে আমরা বিষয়টি অবহিত করেছি। আর শ্রেণিকক্ষের আসবাবপত্র সংকটও দ্রুত নিরসন করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত