কাল উৎসবে মেতেছিল আফগানিস্তান। বিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার উৎসব। বল হাতে যেমন, ব্যাট হাতেও তেমন। তাদের ঝড়ে টালমাটাল শ্রীলঙ্কা। মাত্র ১০৫ রানে লঙ্কানদের গুঁড়িয়ে ১০.১ ওভারেই খেল খতম। ৮ উইকেটের জয়ে এশিয়া কাপে স্বপ্নের শুরু পেল আফগানিস্তান। এদিকে এতটা অসহায় হার কল্পনাও করেনি লঙ্কানরা। আফগানদের কাছে সবচেয়ে বড় হার হজম করে দলটি এখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার ভয়ে।
নিমিষেই শেষ হয়ে গেল যেন। মরুঝড়ের বিভীষিকা শেষের নিস্তব্ধতা তখন শ্রীলঙ্কার ড্রেসিং রুমে। ৫ রানে নেই ৩ উইকেট। সেই ধাক্কায় ম্যাচ হার। শুরুটা এমন হতাশার হবে তা লঙ্কাও ভাবেনি। আফগান ঝড়ের চোটে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় পড়তে চলেছিল তারা। কোনোমতে সেই লজ্জা এড়িয়ে ১০৫ করেছে। কিন্তু এত কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার গ্লানি কী করে মুছবে দলটি। ভুল শট, ভুল বোঝাবুঝি আর আফগানদের নিখুঁত বোলিংয়ে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে ভুলে যাওয়ার মতো শুরু শ্রীলঙ্কার।
টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কার সর্বনিম্ন স্কোর ৮২। ভারতের বিপক্ষে ২০১৬ সালে এসেছিল ওই হতাশা। কাল সেই মাইলফলক ছাপিয়ে যাওয়ার মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে পুরোদমে লঙ্কাকে চেয়ে ধরেন আফগান বোলাররা। শুরু করেন ফজলহক ফারুকী। এরপর লঙ্কান ব্যাটারদের জন্য দুর্বোধ্য বোলিংয়ের রেলগাড়ি শুরু। নিখাদ অফস্পিনার মোহাম্মদ নবিও এদিন রহস্যময় স্পিনার। বল ছুড়ছেন অথচ তা অফস্পিন না হয়ে হচ্ছে আউটসুইং। আর ওই বলে উইকেটও পেলেন নবি। অবস্থা এমন যে রানই পাচ্ছিল না শ্রীলঙ্কা। মাত্র ৭৫ রানে তাদের ৯ উইকেট নেই। আটে নামা চামিকা করুনারতেœ শেষ পর্যন্ত টিকে ৩৮ বলে ৩১ রান করে দলকে একশ পার করান।
প্রথম ওভারে জোড়া ধাক্কা ফারুকীর। দুটোই এলবিডব্লিউ, নতুন বল ও ফ্রেস পিচে দারুণ ইন ও আউটসুইং দেখালেন এই বাঁহাতি। ওভারের পঞ্চম বলে ডান হাতি কুশল মেন্ডিসকে ইনসুইংয়ে এলবিডব্লিউ করলেন। পরের বলে বাঁহাতি চারিথ আসালাঙ্কাকে একইভাবে ফেরালেন আউটসুইংয়ে (বাঁহাতির জন্য ইনসুইং)। পরের ওভারে নাভিনের বলে কাভার ড্রাইভ করতে গিয়ে ফিরলেন নিশাঙ্কা। উইকেটের পেছনে এ ক্যাচ নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে এরপর আর বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়নি। ৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর লঙ্কাকে কিছুটা টানছিলেন গুনাতিলকা ও রাজাপাকসে। তাদের ৪৪ রানের জুটি ভেঙে টানা দুই ওভারে গুনাতিলকা ও হাসারাঙ্গাকে ফেরান মুজিব। তার বলে বড় শট নিতে গিয়ে দুটোই মিস টাইম করেন দুই ব্যাটার। অধিনায়ক শানাকা নবির প্রথম বলেই কটবিহাইন্ড। পরে ১৩তম ওভারে পরপর দুই বলে দুই রানআউট। রাজাপাকসে ও থিকসানা। রাজাপাকসের আউটে সম্মানজনক রানের আশাও শেষ হয় শ্রীলঙ্কার। ২৯ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ করেন। শেষ উইকেট জুটিতে ওই ৩০ রান না এলে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানের লজ্জাতেই পড়তে হতো শ্রীলঙ্কাকে। ফারুকী ৩, মুজিব ও নবি দুটি করে উইকেট নেন। ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে শিকারশূন্য ছিলেন রশিদ খান।
সহজ টার্গেট রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটে হয়ে গেল আরও সহজ। বিধ্বংসী এই ওপেনার খেললেন নিজের মতো। অপর প্রান্তে ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকানো হজরতুল্লাহ জাজাই থাকলেও তাকে মারার সুযোগই দেননি। কী থিকসানা, কী হাসারাঙ্গা বা লাসিথ মালিঙ্গার ক্লোন মাথিসা পাথিরানা সবাই উড়ে গেলেন গুরবাজের শটে। মাত্র ১৮ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৪০ রান করে হাসারাঙ্গার বলে থামেন গুরবাজ। ততক্ষণে ম্যাচ শেষ। বাকি কাজটুকু ১৫ রান করা ইবরাহিম জাদরানকে নিয়ে সারেন ২৮ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ রান করা জাজাই।
চরম একপেশে এই ম্যাচে নিশ্চিত চোখ রেখেছে বাংলাদেশ। এ দুই দলের গ্রুপেই তো সাকিব আল হাসানরা। রানরেট ৫.১৭তে তুলে নেওয়া দুরন্ত এই জয়ে নিশ্চিতভাবেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ বের করেছে আফগানিস্তান। ৩০ আগস্ট বাংলাদেশের বিপক্ষ পরের ম্যাচেও এমন মরুঝড় তুলতে চাইবে তারা।
