কেন্দুয়ার ইউএনও মাহমুদাকে এবার চট্টগ্রামে বদলি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২২, ০২:৫০ এএম

খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ নিয়ে আলোচিত নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগমকে এবার চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব কে এম আল-আমীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পদায়নের জন্য তাকে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. খবিরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মাহমুদা বেগমকে কেন্দুয়ার পাশের উপজেলা মদনে বদলি করা হয়েছিল।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার নেত্রকোনার কেন্দুয়া, মদন ও খালিয়াজুরি উপজেলার তিন ইউএনওকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে কেন্দুয়ার ইউএনও মাহমুদা বেগমকে মদনে এবং মদনের ইউএনও আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমানকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পদায়ন করা হয়। অন্যদিকে কেন্দুয়ায় নতুন ইউএনও হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যুক্ত কাবেরী জালালকে আর খালিয়াজুরিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যুক্ত মো. এরশাদুল আহমেদকে পদায়ন করা হয়। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে মাহমুদা বেগমকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়।

কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল গ্রামে ১ একর ৮৭ শতক জমির মধ্যে খেলার মাঠের ৪৬ শতক জায়গা কান্দা শ্রেণিতে পরিবর্তন করে সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে মাহমুদা বেগম আলোচনায় আসেন। মাঠ রক্ষায় এলাকাবাসীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। একই সঙ্গে ওই গ্রামের ৮ বাসিন্দা বাদী হয়ে গত ৩০ মে আদালতে একটি মামলা করেন।

এরপর ২ জুন রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন দুটি ঘরের গাঁথুনি ভেঙে দেওয়া হয়। পরদিন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী বাদী হয়ে ১৯ জনের নামে মামলা করেন। এরপর পুলিশ পাহারায় ঘরের নির্মাণকাজ চলে। এরই মধ্যে গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোনার বর্তমান জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ২৩টি ঘরের মধ্যে ১১টি সরিয়ে নেন। মাঠের পশ্চিম পাশ দখলমুক্ত করে ২৪ শতক জায়গায় ১২টি ঘর বানানো হয়। গত ১৩ আগস্ট ভোরে সেখানকার দুটি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আগুনের ঘটনায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেন।

ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে ইউএনও মাহমুদা বেগম আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতাসহ কয়েকজনকে দোষারোপ করেন। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে ষড়যন্ত্র করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে বলাইশিমুল ইউনিয়নের সব বাসিন্দার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ইউএনওর বক্তব্যের ভিডিও দৈনিক সংবাদ ও ডেইলি অবজারভারের কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন কবীর নিজের ফেইসবুক পেজে পোস্ট করেন। পরে ইউএনও ওই সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। এরপর জেলা প্রশাসক তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন। ১৯ আগস্ট বলাইশিমুল ঈদগাহে ইউনিয়নের ২৮ গ্রামের বাসিন্দাদের বৈঠকে ইউএনও মাহমুদা বেগমকে বলাইশিমুল ইউনিয়নে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে তাকে অপসারণের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত