সন্ত্রাসের ব্যাধিতে আজকের বাংলাদেশ আক্রান্ত উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নেওয়ার জন্য সরকার সন্ত্রাস, হুমকি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। কিন্তু সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।’
গতকাল রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিবৃতি দেন তিনি।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ওপর জনগণের ক্ষোভ এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিরোধীদলহীন একদলীয় শাসন ও সন্ত্রাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে এই জুলুমবাজ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাই দেশকে বিরোধীদলহীন করার জন্য বর্তমান শাসকগোষ্ঠী সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও সরকারি যন্ত্রকে নিষ্ঠুরভাবে ব্যবহার করছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্নকরণের জন্য সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শাসকগোষ্ঠী। আর এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আওয়ামী সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা সারা দেশে ধারাবাহিক বেপরোয়া সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (গতকাল) অমিতের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে, তাকে হত্যা করার জন্যই এই আক্রমণ। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পান।’
তিনি বলেন, ‘নিত্যপণ্যের সীমাহীন দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দফায় দফায় গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণ এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিনযাপন করছে। এদের ব্যর্থতা সীমাহীন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তারা মানুষের চোখকে বিভ্রান্ত করার জন্য নানা ধরনের অমানবিক কাজে লিপ্ত রয়েছে। নিশিরাতের সরকার জনগণের দুঃখ-কষ্টের কোনো ধার ধারে না। জনগণকে অনাহারে-অর্ধাহারে রেখে তারা সুখের বিলাসে মত্ত আছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ওপর হামলার পর যশোর বিএনপি কার্যালয়েও সন্ত্রাসীরা ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে, ভাঙচুর করেছে। যশোর জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য নেতাকর্মী ও তাদের বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা চলছে।’
