মিয়ানমারের মর্টার শেল বান্দরবানে খতিয়ে দেখবে ঢাকা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ০২:২১ এএম

বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টার শেল পাওয়ার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেশটিকে সতর্ক করার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, অবিস্ফোরিত মর্টার শেল পড়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনাবশত হলে মিয়ানমারকে সতর্ক করা হবে। এর আগে সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টার শেল পড়েছিল। তখনো আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম।

গতকাল রবিবার বিকেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু বাজার এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের বিষয়ে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্তের তুমব্রু বাজার এলাকায় তিনটি মর্টার শেল পড়ে। সেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।

আমাদের বান্দরবান ও উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য থেকে জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও ঘুমধুম এলাকার বাসিন্দারা বলছে, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে থেকে সীমান্তের ওপারে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির লড়াই চলছে। গতকাল সকাল থেকেই দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে লড়াই চলে। দুপুরের দিকে সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর বিকেলে বাংলাদেশের সীমান্তের মধ্যে মর্টার শেল পড়ার ঘটনা ঘটে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, গতকাল ৩টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের উত্তরপাড়া এলাকায় তিনটি মর্টার শেল এসে পড়ে। পরে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।

তিনি জানান, গত কয়েক দিন থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তাদের গোলাগুলির আওয়াজে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। অবিস্ফোরিত মর্টার শেল তিনটির আঘাতে হতাহত হয়নি কেউ। তবে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে

স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও ঘটনার পর বিজিবি সতর্ক রয়েছে। তবে শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের ৬২১টি পরিবারের ৪ হাজার ২০০ সদস্য রয়েছে। তারা বেশি আতঙ্কে রয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার থেকে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত