কুমিল্লা নগরীজুড়ে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে খুন, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক কারবার, গুম-অপহরণের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে নিয়মিত। রাজনৈতিক ‘বড় ভাইদের’ ছত্রছায়ায় দিন দিন তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে আশ্চর্য কারণে গত দুই বছর ধরে এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয় পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর কিশোর অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে আলোচিত ২০টি গ্রুপ। রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গ্যাং সদস্যরা নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতারা মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ সামাজিক সব অপরাধের জগতের নিয়ন্ত্রণে কিশোরদের ব্যবহার করছেন।
নগরবাসীর অভিযোগ, বাড়িঘর, দোকানপাট নির্মাণসহ যেকোনো কাজের জন্য এসব গ্যাং সিন্ডিকেটকে চাঁদা দিতে হয়। ইট-বালু, রড-সিমেন্ট সাপ্লাইয়ের নামেও করা হয় চাঁদাবাজি। অনেকটা অসহায় হয়েই তাদের ম্যানেজ করে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন অভিভাবকরা। হরহামেশাই শিক্ষার্থীদের জিম্মি করছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। গায়ে পড়ে নানা অজুহাতে নিরীহ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বয়সী লোকজনকে মারধর করছে তারা। নগরীর কোলাহলমুক্ত ধর্মসাগর পার্ক, নানুয়ার দিঘীরপাড়, রানীর দিঘীরপাড়, তালপুকুরপাড়, ফৌজদারী চৌমুহনী এলাকাগুলোতে জনসমাগম এবং হাঁটাচলা কমে গেছে। অথচ তাদের বিষয়ে পুলিশের তেমন তৎপরতাও চোখে পড়ে না।
গত দুই বছরে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হাতে খুন হয় নগরীর মোগলটুলী এলাকার শিক্ষার্থী আজনাইন আদিল, মডার্ন স্কুলের ছাত্র মুমতাহিন হাসান মিরণ, জামতালার মিথুন ভূঁইয়া, অটোরিকশাচালক শাহজাহান, নগরীর দিশাবন্দ এলাকার শিক্ষার্থী সাজ্জাতুল ইসলাম অনিক, কুমিল্লা অজিতগুহ কলেজের ছাত্র অন্তু, ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহজাদা ইসলামসহ বেশ কিছু কিশোর ও শিক্ষার্থী। আলোচিত এসব মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে ফের তৎপরতা চালাচ্ছে। খুনের মামলা থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিদের কদরও বেড়েছে গ্যাংয়ে। তাদের এলাকার মানুষ আরও বেশি ভয় পাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ধর্মসাগর, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, ফৌজদারী চত্বর, ভাষা চত্বর, মোগলটুলী এখন আতঙ্কের এলাকা। তারা এখন আর এসব স্থানে হাঁটাচলা করতে যেতে পারেন না। বখাটে আর কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে এসব এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে আমরা এসব গ্যাংয়ের অবস্থান শনাক্ত করছি, তাছাড়া তাদের কারা শেল্টার দিচ্ছে এসব নেপথ্যের বড় ভাইদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। কোনোভাবেই এ কিশোর অপরাধকে আর বাড়তে দেওয়া হবে না। নগরবাসীর উদ্বেগের বিষয়টি পুলিশ সুপারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা আমাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি, আশা করি শিগগিরই আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।’
