জনগণের দাবি নিয়ে গত ২২ আগস্ট থেকে সারা দেশে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজপথে মোকাবিলা করার কথা বলে নিজেরা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে, বাসা-বাড়ি ভাঙচুর করে সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে দলের চলমান কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সারা দেশে এতদিন ধরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যে ত্রাস সৃষ্টি করেছে তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা করছে। শুধু তাই নয়, হামলা করে আহত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আবার মামলা করছে তারা।’
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে যশোর, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফেনী, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, ঠাকুরগাঁও, লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ, মাগুরা, গাইবান্ধা, বরিশাল, খুলনা, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, রাজশাহী, নোয়াখালী, ভোলা, নাটোর, কুমিল্লা, নড়াইলের বিভিন্ন উপজেলায় চলমান বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও পুলিশী হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন সাড়ে ৭০০-এর অধিক নেতাকর্মী। মিথ্যা মামলা করা হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে। মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৬০ জনের অধিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল চিন্তা করছে না যে কাজটা তারা শুরু করেছে, এটা সমগ্র দেশে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করবে। প্রকৃতপক্ষে এই আন্দোলনে সম্পূর্ণভাবে বর্তমান অবৈধ সরকার তারা ভীত হয়ে, সন্ত্রস্ত হয়ে আজকে আবার সেই তাদের দমননীতি চালিয়ে যেতে শুরু করেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ঘোষিত উপজেলা-থানা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মসূচি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। যেসব উপজেলা ও থানায় কর্মসূচি হয়নি সেগুলোতে এই বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপরে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোডশেডিং, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভোলায় গুলিতে নিহত নূরে আলম ও আবদুর রহিমের হত্যার প্রতিবাদে গত ২২ আগস্ট থেকে উপজেলা-থানা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি করে বিএনপি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আবুল কালাম আজাদ, আসাদুল করিম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, সাইফুল আলম নিরব, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ।
