পাকিস্তানে বন্যা

চিরকুট লিখে সহায়তার আবেদন দুর্গতদের

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ০৩:১০ এএম

পাকিস্তান স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বন্যা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশটিতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মানুর উপত্যকায় বন্যার কারণে সেতু ভেঙে পড়ায় নদীর ওপারে আটকে পড়েছে শত শত মানুষ। এমন অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছে তারা। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের সংবাদকর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে খবর সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের কাছে হাতে লেখা চিরকুট ছুড়ে দিয়েছে। সেখানে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে তারা।

গত শুক্রবার থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের ১০টি সেতু ও বেশ কিছু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। আটকে পড়েছে মানুর উপত্যকার একটি নদীর অন্যপাড়ের মানুষরা। বিবিসির প্রতিনিধিদের প্রতি ছুড়ে দেওয়া চিরকুটে তারা লিখেছে, ‘আমাদের ত্রাণ সরবরাহ প্রয়োজন, ওষুধ প্রয়োজন। দয়া করে সেতুটি পুনর্গঠন করুন। আমাদের কাছে এখন আর কিছুই নেই।’

পাকিস্তানের কাঘান পর্বত এলাকায় মানুর উপত্যকার অবস্থান। এটি পাকিস্তানের বিখ্যাত একটি পর্যটন এলাকা। বন্যায় এ পর্যন্ত সেখানে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আকস্মিক বন্যার কারণে দৃষ্টিনন্দন এ উপত্যকাকে প্রধান শহরের সঙ্গে সংযোগকারী একমাত্র সেতুটি ভেঙে পড়ায় নদীর অন্যপাড়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় ত্রাণসহায়তার অপেক্ষায় আছে স্থানীয় লোকজন। বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের প্রতিনিধিরা বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক দিয়ে বিপজ্জনকভাবে এক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ওই উপত্যকা এলাকায় পৌঁছেছিলেন। মানুরে দুটি সেতু পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই জিনিসপত্র নিয়ে বসেছিলেন এক বয়স্ক নারী। নদীর এপার থেকে ওপারে অবস্থিত বাড়ি দেখা গেলেও সেতু ভেঙে পড়ায় সেখানে যেতে পারছেন না বলে বিবিসির প্রতিনিধিদের জানান তিনি। ওই নারী বলতে থাকেন, ‘নদীর ওপারে আমার বাড়ি। সন্তানরা সেখানে আছে। দুদিন ধরে আমি এখানে অপেক্ষা করছি। সরকার সেতুটির সংস্কার করবে, সে আশায় বসে আছি। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ আমাদের পাহাড়ের অন্য পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাড়িতে যেতে বলেছে। তা করতে গেলে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা হাঁটতে হবে। আমি বয়স্ক মানুষ। এত দূর হাঁটব কীভাবে?’ কিছুক্ষণ পর সেখানে শুরু হয় বৃষ্টি। অস্থায়ীভাবে তৈরি সে কাঠের সেতুর নিচে পানি বাড়তে থাকে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে ওই নারী চলে যান।

নদীর ওপারে মাটির ঘরের সামনে মানুষদের বসে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিনিধিদের সরকারি কর্মকর্তা ভেবে তাদের উদ্দেশে হাত নাড়াতে থাকে ওপারের মানুষ। তখনই একটি কাগজে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে তা পাথরভর্তি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নদীর ওপাশ থেকে ছুড়ে দেয় স্থানীয় লোকজন। এখন নদীর এপার আর ওপারের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে এ পদ্ধতি। মোবাইল নেটওয়ার্কও সেখানে কাজ করছে না। হাতে লেখা ওই চিরকুটে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে এবং সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘অনেক মানুষ অসুস্থ। হেঁটে যেতে পারবে না। দয়া করে সেতুটি তৈরি করে দিন। এটি শহরের সঙ্গে প্রধান সংযোগ রক্ষাকারী।’

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশেও বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত আছে। ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রদেশটিতে আগামী কয়েক দিনে বন্যার পানি আরও বাড়বে। দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তানের আবেদনে সাড়া দিয়ে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা, ফ্রান্স, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, আজারবাইজানসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত