মুগদা হসপিটালে অ্যাপোলো হসপিটালস হায়দ্রাবাদ-এর বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ১২:৫৫ পিএম

ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে হায়দ্রাবাদের অ্যাপোলো হসপিটালের একটি বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ডা. রাজীব রেড্ডি (কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক অনকোসার্জন) এবং ডা. রুমা সিনহা (কনসালট্যান্ট গাইনোকোলজিস্ট, ল্যাপারোস্কোপিক এবং রোবোটিক সার্জন)।

তারা অর্থোপেডিক অনকোলজি এবং ল্যাপারোস্কোপিক এবং রোবোটিক সার্জারির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।

‘একবিংশ শতাব্দীতে হাড়ের টিউমার হলেও অঙ্গ সংরক্ষণ’ বিষয়ের উপর আলোচনায় ডা. রাজীব রেড্ডি বলেন, সারকোমা হ'ল ক্যান্সার— যা হাড়, পেশি, জয়েন্ট এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অন্যান্য অংশ, পিঠ এবং  পেলভিসে হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে দেখা যায়, যারা ক্রমাগত ব্যথার কথা জানায় বা হাত-পা ফুলে যাওয়ার অভিযোগ করে যা আকারে বাড়তেই থাকে। অর্থোপেডিক অনকোলজিস্ট হলেন একজন অভিজ্ঞ সার্জন যিনি শুধুমাত্র সারকোমা নির্ণয় এবং চিকিৎসা করেন। যেহেতু হাড়ের এই ক্যানসার আজকাল প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, একজন বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক অনকোসার্জন হিসেবে তিনি এই চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। সারকোমা (হাড়ের ক্যানসার) চিকিৎসার শুরুতেই চাই একজন বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক অনকোসার্জনের সঠিক নির্ণয় এবং এতে সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং মাঝে মাঝে রেডিয়েশন থেরাপির মিশ্রণ থাকে।

ডা. রুমা সিনহা কথা বলেন ‘মিনিমাল অ্যাক্সেস সার্জারির মাধ্যমে নারীর ফার্টিলিটি বৃদ্ধি’বিষয় নিয়ে।

তিনি বলেন, নারীর বন্ধ্যাত্ব সমস্যা পুরো বিশ্বেই বেড়ে চলছে। তরুণীদের মধ্যে ইনফার্টিলিটি হওয়ার অন্যতম বড় কারণ ফাইব্রয়েড আর এন্ডোমেট্রিওসিস। সার্জারির মাধ্যমে সাধারণত এই সমস্যাগুলোর চিকিৎসা করা সম্ভব। মিনিমাল অ্যাক্সেস সার্জারি, ল্যাপারোস্কোপি এবং রোবোটিক- উভয়ই আজ নারীদের এই দুটি সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার।

সার্জারির পরে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভধারণের পাশাপাশি কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে গর্ভধারণের হার বেড়েছে। ডাক্তারের এই বক্তৃতায় রোগী নির্বাচন— যারা সার্জারির ফলে উপকৃত হবেন— তাদের নিয়েও আলোচনা করা হয়। সেইসাথে সার্জারির কৌশল, এবং সার্জারির পরে গর্ভধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন এমন কিছু কেস স্টাডিও তুলে ধরা হয়।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুগদা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা’র অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এমডি আবুল হাসনাত, এবং গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাবিনা হোসেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ডা. আব্দুল বাশার এমডি জামাল (অধ্যক্ষ) এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. নিয়াতুজ্জামান (পরিচালক)।

এ্যাপোলো হসপিটালস-এর বিষয়ে: 

অ্যাপোলো চেন্নাই-এর পরে অ্যাপোলো গ্রুপের দ্বিতীয় হাসপাতাল- অ্যাপোলো হসপিটালস হায়দ্রাবাদ, যা ১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করে। ৩৫ একর সবুজ উঠানে বিস্তৃত এই হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছিল শ্রেষ্ঠত্ব, দক্ষতা, সহানুভূতি এবং উদ্ভাবনের মূল্যবোধে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আসার লক্ষ্যে।

আজ প্রায় ৩ দশক পরে অ্যাপোলো হসপিটালস, হায়দ্রাবাদ এশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং বিশ্বস্ত সমন্বিত হেলথ সিটিতে পরিণত হয়েছে। এই ৫৫০ শয্যার মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালে ৫০টিরও বেশি স্পেশালিটি এবং সুপার-স্পেশালিটির সাথে ১২টি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স রয়েছে— যাতে অসুস্থতা, সুস্থতা এবং সামগ্রিক থেরাপি পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা আছে।

অ্যাপোলো হসপিটালস, হায়দ্রাবাদ ২০০৫ সাল থেকে জেসিআই (ইউএসএ) স্বীকৃত একটি ফ্যাসিলিটি।

এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগের ঠিকানা : সানজীদা সাঈদ ([email protected]), ফোন নম্বর : 01746110100

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত