এক, দুই, তিন। টাইগারদের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে একাই ফিরিয়ে দিলেন আফগান স্পিনার মুজিব-উর রহমান। তার ঘূর্ণিতে কাবু সাকিব-আনামুলরা হাত খোলারই সুযোগ পাননি। তাতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ সংগ্রহ করতে পেরেছে মাত্র ২৮ রান। শুধু মুজিবই নন, বাদ যাননি রশিদ খানও। নিজের প্রথম ওভারে এসেই নিলেন উইকেট। ফেরালেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিমকে। ৭ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে টাইগাররা।
এ দুই স্পিনার মিলে যেন মেতে উঠেছিলেন উইকেট উৎসবে। নিজেদের প্রতিটি ওভারেই আঘাত হেনেছে প্রতিপক্ষের ডেরায়। তাদের আঁটোসাটো বোলিং আর টাইগার ব্যাটারদের ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে পাওয়ার ১০ ওভারে মাত্র ৫০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে হাত খোলারই সুযোগ দেয়নি আফগানরা।
শুরুটা হয়েছিল ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে। টি-টোয়েন্টিতে আরও একবার নতুন শুরুর মিশনের প্রথম দিনেই হতাশ করলেন তরুণরা। লিটন দাসের চোটের কারণে সুযোগ হয়েছিল নাঈম শেখের। ক্যারিবিয়ান সফরে এ দলের জার্সি গায়ে সেঞ্চুরি করেই এশিয়া কাপের দলে ফিরেন তিনি। ফিরেই সুযোগ হয় একাদশে। কিন্তু সুযোগ সদ্ব্যবহার। ৮ বল খেলে ৬ রানেই ফিরে যান তিনি। মুজিব-উর রহমানের স্পিনে কাবু হন তিনি।
ওভারের শেষ বলে মুজিবের বল থেমে থেমে আসছিল, ভেতরের দিকে ঢোকা বলটিতে ব্যাট চালিয়ে নাগাল পাননি তিনি। ব্যাট ও প্যাডের মাঝে বি-শা-ল ফাঁক রেখে খেলতে গিয়ে মিস করে হয়েছেন বোল্ড। মুজিবের পরের ওভারেই ফিরে যান আনামুল। নিচু হয়ে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে মিস করে গিয়েছিলেন। আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব অবশ্য আউট দেননি। মুজিব উৎসাহী ছিলেন শুরু থেকেই, তবে নবী রিভিউ নেন একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে। সফলও হলো আফগানিস্তান। বিজয় ১৪ বলে করেন ৫ রান।
দুই ওপেনারের ব্যর্থতার পর টাইগার ভক্তরা সাকিব ও মুশফিকের পানে চেয়েছিলেন। তাদের হাতে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ, এমন প্রত্যাশায় থাকা সমর্থকদের আশায় গুড়েবালি। মুজিবের তৃতীয় ওভারেই তৃতীয় আঘাত, শিকার হন সাকিব। ৯ বলে ১১ রানের পথে ছিল দুটি চারের মার।
এর পরের ওভারেই আসেন রশিদ খান। তিনিও এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মুশফিককে। গত দুই টি-টোয়েন্টি সিরিজ দলে না থাকা মুশি ফেরাটা তাই রাঙাতে পারলেন না।
প্রতি ওভারেই যখন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা যাওয়া আসার মিছিলে ব্যস্ত, ১০ ওভার শেষে রানও তাই এসেছে অল্প। অর্ধ ইনিংস শেষে রিয়াদ আফিফরা সংগ্রহ করেন ৪ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান। কিন্তু সেটাও ধারাবাহিক হয়নি। ১১ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৫৫ রান সংগ্রহ করেছে লাল সবুজরা।
