দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানতকারীদের আস্থাহীনতার মধ্যেও নতুন করে আরও একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪২৪তম বৈঠকে নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি নামের প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেশিরভাগ পর্ষদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি লিমিটেডের চেয়ারম্যান কে তা জানা যায়নি। তবে গতকাল রাতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদের প্রতিষ্ঠাতা এমডি তানভীর এ মিশুক গণমাধ্যমে পাঠানো বক্তব্যে বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনুসারে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি স্বতন্ত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। তবে ডাক বিভাগের সঙ্গে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেডের বিদ্যমান সম্পর্ক অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ নগদ লিমিটেড ডাক বিভাগের সেবা হিসেবেই পরিচালিত হবে।
সেক্ষেত্রে নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি অন্য আর দশটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। নগদের এমডি বলেছেন, একটি মোবাইল আর্থিক সেবা হিসেবে নগদ লিমিটেড এখন অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে। এক্ষেত্রে নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি এবং নগদ লিমিটেডের সম্পর্কও একই রকম হবে। তখন নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি বিভিন্ন প্রডাক্ট নগদ লিমিটেডের মাধ্যমে বিপণন করা হবে। ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাইরে থাকা প্রান্তিক মানুষকে সেবার কলেবরের মধ্যে আনতে ফাইন্যান্স পিএলসি এবং নগদ লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করতে পারবে। তাতে সেবার খরচও কমবে এবং সেবার গুণগত মানও আগের চেয়ে ভালো হবে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে দেশে ৩৪টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। কার্যক্রমে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিও (বিআইএফসি) আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা নাজুক। পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের আমানতকারীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন টাকা ফেরত পাওয়ার আশায়।
