ট্যাক্স রিটার্নসহ বিভিন্ন কড়াকড়ি আরোপে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৯৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমেছে ৮১ শতাংশ। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বশেষ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সনদ জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের এমন নির্দেশনার পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। পুরনো বিনিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে বিনিয়োগ করতে না পারায় নিট বিনিয়োগ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। এতে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমেছে ৫২ শতাংশের বেশি।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, আগে টিআইএন জমা দিলেই বিনিয়োগ করা যেত। অনেকে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য টিআইএন খুলতেন, কিন্তু বছর শেষে রিটার্ন জমা দিতেন না। নতুন বিনিয়োগে টিআইএন সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারী যারা রিটার্ন জমা দেন না, তাদের নতুন বিনিয়োগ কমে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরের জুনে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ হয় ১ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের জুনে ছিল ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ জুনে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ কমে প্রায় ৬২ শতাংশ। অপরদিকে বিদায়ী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়েছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।
বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটেও এটি অপরিবর্তিত রাখা হয়। কিন্তু বিদায়ী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে মাত্র ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যেখানে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঘাটতি ছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি পূরণে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।
