দেশে রেল এখনো ভর্তুকি দিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেছেন, ‘রেল জনগণের বাহন এবং সরকারের প্রতিষ্ঠান। এই রেল থেকে যত আর্নিং হয় তা সরকারের কোষাগারে জমা হয়। এবার আমাদের বাজেট দিয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার মতো। আর আমরা আর্ন করি বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার মতো। এই দেড় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে আমরা চালাচ্ছি। অনেক সময় আমাদের যে এই আড়াই হাজার কোটি টাকা, সেটাও ইনকাম করতে পারি না।’
গতকাল মঙ্গলবার রেলভবনে রেলওয়ের বিভিন্ন সেকশনের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ প্রদান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বাহন লিমিটেড, সামিট লিমিটেড, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা লিমিটেড ও ফাইবার হোম লিমিটেডকে রেলওয়ের নিজস্ব অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ লিজ দেওয়া সংক্রান্ত এ চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়।
রেলমন্ত্রী বলেন, ’৭৫-এর পরে যে সরকারগুলো এসেছে তারা সড়কে শুধু ডেভেলপ করেছে, রেলে কোনো ডেভেলপ করেনি। আমরা উন্নত দেশগুলোতে দেখেছি, একটা ভারসাম্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। ’৪৭-এর পরে আমাদের এই অঞ্চলের রেলে খুব একটা ডেভেলপমেন্ট হয়নি। পরে মুক্তিযুদ্ধের সময় রেল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেলের ট্রাক, ব্রিজ, স্টেশন থেকে শুরু করে সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাধীনতার পরে যে কয়টি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার মধ্যে একটি ছিল এই রেল। সেটা অনেকখানি তিনি করেও ছিলেন।
রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেননি বলে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘যে ফাইবার আমরা লিজ দিচ্ছি, যা আমাদের নিজস্ব আছে। ১৯৮৪ সালে আমরা স্থাপন করেছি। রেলের নিজের জন্য তৈরি করা ডিজিটালাইজ পদ্ধতি থাকলেও সেই জায়গায় আমরা কিন্তু পিছিয়ে আছি। আমরা নিজেরাই এটা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারিনি। পরিকল্পনা করছি কীভাবে রেলকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখা যায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে অপটিক্যাল ফাইবারসংক্রান্ত ৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি এনটিটি ও দুটি মোবাইল কোম্পানি। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে রেলওয়ে অবদান রাখছে। রেল শুধু যাত্রীসেবাই দিচ্ছে না, এখন ফাইবার সংযোগের মাধ্যমে দেশকেও ডিজিটালাইজ করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
রেলওয়ে মহাপরিচালক ডি এন মজুমদারের সঞ্চালনায় ও রেল সচিব হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে রেলওয়ের কর্মকর্তা এবং বাহন লিমিটেড, সামিট লিমিটেড, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা লিমিটেড ও ফাইবার হোম লিমিটেডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
