গুমের প্রতিবাদ ও নিখোঁজ নেতাকর্মীদের সন্ধান দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুম-খুনের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে জাতিসংঘের অধীনে ‘স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলছি, গুমের ঘটনায় স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। অন্যথায় গুমের সঙ্গে জড়িত সরকারকে যেভাবে বিচার করা হয়েছে, তেমনিভাবে ভবিষ্যতে জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসলে গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে।’
কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা খ- খ- মিছিল নিয়ে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। হাজারো নেতাকর্মী ফকিরাপুল মোড় থেকে শুরু করে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত সড়কের এক পাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর চৌধুরী আলমসহ বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সেøাগান দেন তারা। এছাড়া রাস্তায় শুয়ে গুমের প্রতীকী চিত্র তুলে ধরেন দলের কিছু নেতাকর্মী।
মানববন্ধনে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব দাবি করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম-খুন করে ভয় দেখিয়ে রাষ্ট্র চালাচ্ছে। আজকে সারা দেশে বিএনপির আন্দোলন দেখে সরকার ভয় পেয়ে গেছে। তারা লাঠিয়াল বাহিনী নামিয়ে দিয়েছে। কোনো লাঠিয়াল বাহিনীতে কাজ হবে না। মানুষ জেগে উঠছে।’
দেশের তরুণ, যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ দেশকে রক্ষা করার জন্য সবাই এগিয়ে আসুন। এই শিশুদের বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন আন্দোলন গড়ে তুলি যে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আমরা এ ভয়াবহ দুঃশাসন, ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার গঠন করতে পারব। সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।’
‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কোনো কথাই বলেননি’ আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্য ডাহা মিথ্যা বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিথ্যাচারের জন্য সরকারকে নোবেল পুরস্কার দিতে হবে। তারা জনগণকে প্রতারণা করছেন। মানবাধিকার কমিশনের প্রধান পরিষ্কার ভাষায় বলে গেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, গুমের অভিযোগ আছে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। আমিও আজকে এই গুম প্রতিরোধ দিবসে উপস্থিত সন্তানদের সঙ্গে দাবি করছি, ঘোষণা করছি যে, জাতিসংঘের অধীনে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে।’
মানববন্ধনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শাম্মী আকতার, অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি, গুম হওয়া বংশাল থানা ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রেজার মেয়ে, গুম হওয়া বংশাল থানা ছাত্রদলের নেতা মো. সোহেলের মেয়ে সাফা, গুম হওয়া গুলশান থানা ছাত্রদল নেতা সাইফুর রহমান সজীবের বাবা শফিকুর রহমান, গুম হওয়া সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি সেলিম রেজা পিন্টুর বোন রেহানা বানু মুন্নি প্রমুখ।
