চালসহ ৯ পণ্যের দাম বেঁধে দেবে সরকার

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২২, ০১:২৩ এএম

নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মজুদ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে সরকার। প্রথমে যে ৯টি পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেই তালিকায় চাল, গম (আটা-ময়দা), পরিশোধিত চিনি, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ ছাড়াও রয়েছে রড ও সিমেন্ট। আর আগে থেকেই বেঁধে দেওয়া হয় সয়াবিন ও পাম তেলের দাম।

এর বাইরেও যদি কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ে তাহলে সেগুলোর দামও বেঁধে দেবে সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিত্যপণ্যের মূল্য, সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আপাতত ৯টি পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া হবে। এর বাইরেও কিছু থাকলে সেগুলোও বিবেচনায় নেব। প্রয়োজন অনুযায়ী আইটেম বাড়ানো হবে। প্রতি মাসে একবার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এ কাজটি করবে ট্যারিফ কমিশন। তারা সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তি সংগঠনকে নিয়ে আলোচনা করে দাম নির্ধারণ করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘যদি কোনো পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রয়োজন হয়, তখন সেটা করা হবে। একচেটিয়া ব্যবসা যেন কেউ করতে না পারে। যারা ন্যায্যতার সঙ্গে সঠিক দাম ঠিক করে পণ্য বিক্রি করবে তাদের আমরা উৎসাহ দেব। কিন্তু যারা সুযোগটা নিতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

শুধু জরিমানা নয়, মামলা করে জেলে পাঠানো হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘২ লাখ লাভ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ব্যবসা বন্ধ করবে না। মনে করবে, দেড় লাখ লাভ থাকলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে সমস্যা নেই। সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণে আমরা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই হয়তো আবার বসব।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক পণ্যের দাম আমরা চাইলেও আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে কমানো সম্ভব হবে না। তবে যেটা হওয়া উচিত তার চেয়ে বেশি দামে যেন ভোক্তাদের কিনতে না হয়, সেটাই আমরা দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তেল-চিনি ছাড়াও অনেক পণ্যের দাম যে পরিমাণ বাড়ানো উচিত তার চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। ট্যারিফ কমিশন এখন এসব পণ্যের ন্যায্য দাম নির্ধারণ করে দেবে।’ তিনি বলেন, ভোজ্যতেলের মতোই আমদানিকারক ও অংশীজনদের সঙ্গে বসে অন্যান্য পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিলে প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিকার সোজা মামলা করে দেবে। আইনে যে জেল-জরিমানার বিধান আছে, সেগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি বিভিন্ন পণ্যের দাম অনেক বেশি বেড়েছে, যেটা গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও সবগুলোই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেখার ছিল, এমনটাও নয়। তারপরও পণ্যের দাম কমানো অথবা যথার্থ করা যায়। অনৈতিকভাবে যারা দাম বাড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে গতকাল থেকেই। ট্যারিফ কমিশন দু-এক দিনের মধ্যে এসব পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ডলারের দাম বাড়তি থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আমরা সুফল পাচ্ছি না। তারপরও আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে দেখব সঠিক দাম কত। আমরা চাইব বাজারে যাতে বেশি দামে বিক্রি না হয়।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচ্য বিষয়ের ওপর একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) এ কে এম আলী আহাদ খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত