নিখোঁজের ১০ মাস পর ফিরে এসেছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান ওরফে ডলার। মেহেদীর বাড়ি ফেরার খবর নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী মোনতাহেনা পিংকি। তিনি জানান, শনিবার রাতেই মেহেদী নিজেই বাড়িতে আসেন। তবে বাড়িতে ফেরার পর থেকে কোনো কথাই বলছেন না। কোথায় ছিলেন বা তার সঙ্গে কী হয়েছে এ বিষয়েও কিছু বলেননি। তবে মেহেদী ফিরে এসেছেন তাতেই খুশি পরিবারের সদস্যরা। তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মেহেদী হাসান ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া এলাকার ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা লাল মাহমুদের ছেলে। গত বছর ৬ নভেম্বর উপজেলার ছনকান্দা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন তিনি। দুদিন পর তার বাবা লাল মাহমুদ ফুলবাড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সে সময় মেহেদীর স্ত্রী মোনতাহেনা পিংকি দাবি করেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে একদল লোক তার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার মোনতাহেনা বলেন, ‘আমার স্বামী গত শনিবার রাতে বাড়ি ফিরেছেন। তবে তিনি এতদিন কোথায় ছিলেন, তার সঙ্গে কী হয়েছে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। আমরাও আপাতত প্রশ্ন করছি না।’
তিনি জানান, মেহেদী ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যরা অনেক খুশি। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। সেখানে তার ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে। ঢাকায় কোন হাসপাতালে বা কোন ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসা হচ্ছে তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, চিকিৎসা শেষে মেহেদী সুস্থ হলে বিস্তারিত জানাবেন।
মেহেদী নিখোঁজের পর মোনতাহেনা পিংকির অভিযোগ ছিল, ঘটনার দিন বিকেল ৫টায় একটি সাদা মাইক্রোবাস ও দুটি মোটরসাইকেলে একদল লোক মেহেদীকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে গুম করা হয়। তিনি স্বামীর সন্ধান চেয়ে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব ও ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন।
মেহেদীর ফেরত আসার বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরাও শুনেছি তিনি ফিরে এসেছেন। এ খবরে তার বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়। তবে বাসায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের কেউ বাসায় নেই। যেহেতু তার নিখোঁজের জিডি হয়েছে, ফলে আমাদের তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে নিখোঁজের ঘটনাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।’
