চট্টগ্রাম বন্দরে এক সপ্তাহ আগে খালাস হয় তুরস্ক থেকে আমদানি করা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ১১ লট পেঁয়াজ। সময়মতো খালাস না করায় যার প্রায় ৩০০ টন এরই মধ্যে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। পচা সেই পেঁয়াজ বাছাই করে ফেলা হচ্চে চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ইপিজেড এলাকায় টিসিবি কার্যালয়ের পাশের পুকুরপাড়ে। আর এ পচা পেঁয়াজের উৎকট দুর্গন্ধ আশপাশে অনেকদূর পর্যন্ত ছড়াচ্ছে। এলাকাবাসী বলছে, পচা পেঁয়াজের দুর্গন্ধে বাসায় টেকা দায় হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরাও স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না। এছাড়া দুর্গন্ধের কারণে ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে আসতে চাইছেন না ক্রেতারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার টিসিবি কার্যালয়ের পাশের পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল জায়গা জুড়ে পচা পেঁয়াজ ফেলে রাখা হয়েছে। যার উৎকট দুর্গন্ধ অনেকদূর পর্যন্ত ছড়াচ্ছে। আশপাশের লোকালয়ের অনেক শিশু-কিশোর দেয়াল টপকে কিংবা লুকিয়ে প্রধান ফটক দিয়ে এসে পচা পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে চাইলেও নিরাপত্তাকর্মীদের বাধায় নিতে পারছে না।
রাতুল নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পচা পেঁয়াজের গন্ধে আশপাশের দোকানগুলোতে কেউ বসে খেতে পারছে না। এভাবে আর কয়েক দিন চললে দোকান বন্ধ করে লসে পড়া লাগবে।’
টিসিবি কার্যালয়ের কাছে নেভি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্লাসের সময় গন্ধে ক্লাস করা যায় না। তাছাড়া বাসা কাছে হওয়ায় সারা দিন বাসার ভেতরেও পচা পেঁয়াজের গন্ধে টেকা যায় না। এভাবে চললে তো আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিসিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘পেঁয়াজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে জাহাজে এক মাস আটকে ছিল। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাগজপত্র সরবরাহ করতে না পারায় পেঁয়াজগুলো খালাস করতে পারেনি। এ কারণে প্রায় ৩০০ টনের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খালাসের পর আমাদের সরবরাহকারী ও তুরস্কের একজন প্রতিনিধি এসব পেঁয়াজ বাছাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন। ভালো পেঁয়াজ আমাদের দেওয়ার পর বাকি পচে যাওয়া পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া হয়। আমরা তাদের ভালো পেঁয়াজের মূল্য পরিশোধ করব। এসব নষ্ট পেঁয়াজের দায়ভার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের। আর্থিক ক্ষতিও তাদের। এখানে আমাদের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। টিসিবির আর্থিক ক্ষতিও নেই।’
পচা পেঁয়াজ খোলা অবস্থায় ফেলে দেওয়ায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে টিসিবি কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিচ্ছি যাতে গন্ধ আশপাশে না ছড়ায়। হয়তো কিছুদিন সময় লাগবে, এরপর গন্ধ আর থাকবে না।’
এদিকে পচা পেঁয়াজের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। তিনি বলেন, ‘টিসিবি কার্যালয়ের ভেতরে আমাদের আসা-যাওয়া নেই দেখে আমার জানার সুযোগও নেই। তবে টিসিবির মতো প্রতিষ্ঠান কীভাবে এত নষ্ট পেঁয়াজ জনবহুল এলাকার মধ্যে ফেলতে পারে তা আমি বুঝতে পারছি না। তারা তো আশপাশে বসবাসকারীদের কষ্টে ফেলে দিল। পরিবেশ নষ্ট করল।’
ব্লিচিং ছিটিয়ে বিপুল পরিমাণ পচা পেঁয়াজের গন্ধ কোনোভাবেই আটকানো যাবে না উল্লেখ করে এ জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘এক-দুই মণ হলে হয়তো মাটিচাপা দেওয়া যেত। কিন্তু এত টন পেঁয়াজ তো মাটিচাপা দেওয়ার মতো সুযোগও নেই। আমি আগামীকাল ঘটনাস্থলে নিজেই গিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখে আসব।’
