মন্ত্রিসভা বৈঠক

সহনীয় মাত্রায় অতিরিক্ত খাদ্যশস্য কেনার তাগিদ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০০ এএম

বর্তমানে সরকারের কাছে চাল ও গমের মজুদ আছে প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ মজুদ থেকে যে পরিমাণ চাল ও গম যাচ্ছে, সেই পরিমাণ চাল ও গম আমদানির জন্য পাঁচটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। কোনো কারণে এসব দেশের কেউ যদি খাদ্যশস্য দিতে অপারগ হয়, তখন যাতে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়। সে কারণে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কিছু খাদ্যশস্য সহনীয় মাত্রায় কিনে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল রবিবার মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।

রাশিয়া, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম এ পাঁচ দেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এসব বিষয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমরা জেনেছি রাশিয়া থেকে খাদ্য আমদানি করলে কোনো রকমের অসুবিধা হবে না। মিয়ানমার থেকে আসছে আতপ চাল। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ভারত থেকেও চাল কেনার চুক্তি হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কারণে সম্প্রতি চালের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। ফলে একটা বড় সংকট বাজার থেকে সরে গেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আগামী তিন মাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টন খাদ্যশস্যের প্রয়োজন হবে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় খাদ্য মন্ত্রণালয় খাদ্যপ্রাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে কয়েকটা চুক্তি হয়েছে এবং ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে বিশ^ব্যাপী খাদ্য সংকটের যে চিন্তা আমরা করছিলাম সেখানে একটা আস্থার চিত্র আমরা পাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী খাদ্যের বিষয়ে কী বলেছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্টভাবে বলেছেন, আমরা যে খাদ্য রিপ্লেসমেন্ট করছি শুধু সেটার ওপর নির্ভর করা যাবে না। অতিরিক্ত খাদ্য কেনার কথা বলেছেন।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘আমদানির পাশাপাশি আমনও চলে আসবে। আমন কম হলেও একটা বড় অংশ আসবে। আপনারা সবাই জানেন বৃষ্টি কম হওয়ায় আমনে প্রভাব পড়বে। যদিও ডিসিরা জানিয়েছেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকছে, যার কারণে সেচ ভালো হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় খাল-বিলে পানি কম থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে হয়তো।’

গতকালের বৈঠকে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট আইন, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য একটি সহযোগিতা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘জাতীয় মানবকল্যাণ পদক’ করা হয়েছে।

অনগ্রসর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখা এবং মিয়ানমারের ১১ লাখ নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি অনুসারেই ‘মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’ প্রচলন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত