ইভিএমে অর্ধেক আসনে ভোট নিয়ে সিইসিও সংশয়ে

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৮ এএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মেশিন পাওয়ার ওপর। একজন নির্বাচন কমিশনারের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, কোনো কারণে ইভিএম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না গেলে ব্যালটে নির্বাচন হবে।

গতকাল সোমবার জাতীয় পার্টি (জেপি) ও ন্যাপের সঙ্গে সংলাপ শেষে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘ইভিএম অনেকে বিশ্বাস করেন, অনেকে করেন না। তবে আমাদের সিদ্ধান্ত আদৌ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না, সেটা নির্ভর করবে এটা পাওয়া যাবে কি না, তার ওপর। কারণ, এটার বেশির ভাগ পার্টস আসবে বিদেশ থেকে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে ব্যালটেই ভোট নেওয়া হবে।’

বর্তমানে ৭০-৮০টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে ইসির। বাকি মেশিন পাওয়া না গেলে এসব আসনে ব্যালটে নির্বাচন হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত রবিবার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের ওপর।

গতকাল সংলাপ শেষে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলে নির্বাচনের মাঠে ভারসাম্য তৈরি হয়। বিএনপি অংশ নিলে নির্বাচন আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক হবে। বিএনপির যদি কোনো রাজনৈতিক কৌশল থাকে, সে বিষয়ে ইসির হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার নেই। তবে কাউকে ধরে-বেঁধে নির্বাচনে আনবে না ইসি।

সিইসি বলেন, ‘এখন বিএনপি যেটা চাচ্ছে, সে ব্যাপারে আমাদের কোনো রকম বাধা নেই। তারা যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে নির্বাচনটা অধিক অংশগ্রহণমূলক হবে। এখন কিন্তু আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে, সেই দায়িত্বের পথে আমরা এগিয়ে যাব। কালকে যদি আমাকে উচ্ছেদ করে দেন, হবে। সেটার জন্য আমি তো মর্মাহত হব না।’

কমিশনের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখে বিএনপিকে ভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যদি অংশগ্রহণ করে, তাহলে নির্বাচনটা অধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। ইসি একা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারবে না। দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে রোডম্যাপ চূড়ান্তভাবে জানানো সম্ভব হবে।

ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের হাতে স্বরাষ্ট্রসহ চারটি মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব নেওয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর ইসির কর্তৃত্ব আছে। এত দিন হয়তো প্রয়োগ করা হয়নি। মন্ত্রণালয় ন্যস্ত করার বিষয়টি এটা ইসির অধীনে হতে পারে না। এটা সংবিধানে বলা আছে। কাজেই আপনি যদি চান আমরা মন্ত্রী হব, এটা সংবিধান অ্যালাউ করবে না। যে ক্ষমতা আছে, সেটাই প্রয়োগ করলে আমরা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে পারি।’

ইভিএমের জন্য মানুষ এখন প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত কার্যকরী সভাপতি আইভি আহমেদ। সংলাপ শেষে তিনি বলেন, ‘ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতা হলে আমরা গ্রহণ করব। এটার জন্য মানুষ এখনো প্রস্তুত নয়। প্রস্তুত কতটুকু করতে পারবেন, তা ওনাদের (নির্বাচন কমিশন) ওপর নির্ভর করবে। গ্রহণযোগ্যতা আনতে পারলে ইভিএম চাই। না হলে চাই না। যদি বুঝতে পারি ত্রুটিমুক্ত, তাহলে অবশ্যই আমরা ইভিএমে ভোট চাইব।’

প্রতি আসনের কিছু কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে সুপারিশ করেছে জেপি। দলটির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে কোথাও ইভিএম আবার কোথাও ব্যালট। তাতে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। হয় ৩০০ আসনেই ইভিএম রাখতে হবে, না হলে প্রতি আসনে কিছু কিছু কেন্দ্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত