দেশের প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সচল ডেমু ট্রেন

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৫ এএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিজেল ওয়ার্কশপে দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রচেষ্টায় চালু হয়েছে একটি ডেমু ট্রেন। নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি সচল হলেও আরেকটি ট্রেন পার্বতীপুরের লোকোশেডে রয়েছে। চীন থেকে আমদানি করা এ ট্রেনগুলো একধরনের বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে ৬৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে ২০টি ডেমু ট্রেন আনা হয়েছিল। মাত্র ৪-৫ বছরের মধ্যেই সেগুলো একের পর এক বিকল হতে থাকে। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ডেমু ট্রেন পার্বতীপুর ডিজেলশপে ওভারহোলিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। এর আগে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপের শুরুতে ২০২০ সালের মার্চে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আরেকটি ডেমু ট্রেন পার্বতীপুর লোকোশেডে রাখা হয়। ২০২১ সালের ২ এপ্রিল রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পার্বতীপুর ডিজেল ওয়ার্কশপে ট্রেন দুটি সচল করার কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে ৭২ কর্মদিবসের প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে একটি ডেমু ট্রেন সচল করা হয়েছে। চীনের মাধ্যমে প্রতিটি ডেমু সচল করতে অন্তত ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা থাকলেও এক্ষেত্রে মাত্র ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

তারা আরও জানায়, গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তৃতীয়বারের মতো লোডসহ পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় পথে চালানো হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে মেরামত হওয়া ডেমু ট্রেনটি। সফল এ ট্রায়ালে ট্রেনের গতি ছিল ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেলে যেকোনো দিন আনুষ্ঠানিকভাবে রেলবহরে যুক্ত হবে এই ডেমু ট্রেনটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেমু ট্রেন সচল করতে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ও আণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান। তিনি দেড় বছরের চেষ্টায় এতে সফল হন। তাকে সহযোগিতা করেছেন প্রকৌশলী আজিম বিশ্বাসসহ পার্বতীপুর ডিজেল লোকো ওয়ার্কশপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পার্বতীপুর লোকোশেডের ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই/লোকশেড) মো. কাফিউল ইসলাম বলেন, পার্বতীপুর লোকোশেডে থাকা দুটি ডেমু ট্রেন ২০২০ সালের ২৬ মার্চ মেরামতের জন্য ডিজেল লোকো ওয়ার্কশপে হস্তান্তর করা হয়। প্রকৌশলীরা গত বছরের ২ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে একটি ডেমু ট্রেন মেরামত চলাকালেই ২৯ বার ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রী লোড ছাড়া ২৭ বার এবং যাত্রী লোড নিয়ে তিনবার পঞ্চগড় ও লালমনিহাট পথে চালানো হয়েছে। সফলভাবেই এসব ট্রায়াল শেষ হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত