সক্ষমতা বাড়ছে ইস্টার্ন রিফাইনারির

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৮ এএম

পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম-পণ্যের চাহিদা পূরণ করে জ¦ালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্যাসোলিন ও জেট-ফুয়েলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে ১২৩ একর জমিতে (লিজ ও ভাড়া ৫০ একর) ১৯ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। মেয়াদকাল ধরা হয়েছে এ বছরের জুলাই থেকে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংস্থার সক্ষমতা ৩০ লাখ টন বেড়ে ৪৫ লাখ টনে দাঁড়াবে।

প্রকল্পের ফ্র্রন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন তৈরি ও ইপিসি-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান টেকনিপ। মূল প্রকল্প ও ফ্রন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন প্রকল্পে পরামর্শক সেবা দেবে ভারতের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (ইআইএল)।

গত ২৪ আগস্ট পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক উইংয়ের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ‘ইউনিট-২’ প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের (শিল্প ও শক্তি বিভাগ) সদস্য ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে সক্ষম, যা দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ ভাগ। জ¦ালানি তেলের চাহিদা আগামীতে আরও বাড়বে বলে সভায় জানান ইস্টার্ন রিফাইনারির জেনারেল ম্যানেজার রায়হান আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ সালে চাহিদা দাঁড়াবে ৮৩ লাখ টনে। ২০২৯-৩০ সালে চাহিদা হবে ১ কোটি ২৩ লাখ টন।

২০২৬-২৭ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর সক্ষমতা বেড়ে ৪৫ লাখ টন হওয়ার পরও ঘাটতি থাকবে ৩৫ লাখ টনের বেশি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ‘বিদ্যুৎ ও জ¦ালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০’-এর আওতায় ২০১৪ সালের ১২ জুন বিদ্যুৎ ও জ¦ালানিমন্ত্রীর (প্রধানমন্ত্রী) অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হলে পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানের গ্যাসোলিন, ডিজেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং রিফাইনারির বিদ্যমান ডিজেলকে ইউরো-৫ মানে রূপান্তরিত করা যাবে। প্রস্তাবিত প্ল্যান্টের ক্রুড অয়েল (অশোধিত তেল) পরিবহনের জন্য ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ নামে আরও একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। বিপিসির হিসাব মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল আমদানিতে প্রতি ব্যারেলে ৯-১০ ডলার সাশ্রয় হবে।

সভায় ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে জ¦ালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দীর্ঘ, মধ্যম ও স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। কাঁচামালপ্রাপ্তি সহজ করতে ক্রুড অয়েল আমদানির নতুন নতুন উৎস সন্ধানের পাশাপাশি নতুন প্ল্যান্টে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিন হিলালী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিপিসি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া দরকার ছিল। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ সম্পন্ন হলে সুফল পাবে দেশের মানুষ।’

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম শহরের প্রান্তে কর্ণফুলী নদীর তীরে ১৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রারম্ভিক ব্যয়ে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৮ সালে পরিশোধন কেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড নিজস্ব পরিশোধন ইউনিটের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে থাকে।

গত ৬ আগস্ট জ¦ালানি তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪, অকটেনে ৪৬ ও পেট্রলে ৪৪ টাকা বাড়ানো হয়। জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। এর প্রভাবে বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়েছে, বেড়েছে পরিবহন খরচও। দাম বাড়ানোর ২৩ দিন পর লিটারে ৫ টাকা কমানো হয়েছে। এখন ডিজেল, কেরোসিন যথাক্রমে প্রতিলিটার ১০৯, পেট্রল ১২৫ এবং অকটেনের দাম ১৩০ টাকা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে জ¦ালানি তেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে অকটেনের ব্যবহার ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬০২ মেট্রিক টন, আর পেট্রলের ব্যবহার ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। বিপিসি সূত্র বলছে, বাংলাদেশে বছরে অকটেনের চাহিদা ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন আর পেট্রলের ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত