বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারির ঊর্ধ্বে

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪০ এএম

বাংলাদেশের সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারির ঊর্ধ্বে উঠে গেছে; গত এক দশকে তা আরও জোরালো হয়েছে। গত ৫০ বছরে শক্ত ও দৃঢ় অংশীদারি তৈরি করে, উভয় দেশ বিস্তারমান খাতভিত্তিক সহযোগিতার জন্য কাজ করছে। সামুদ্রিক ও স্থলসীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার অবসান তারই সাক্ষী।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিদের হাতে বৃত্তি তুলে দিতে গিয়ে একথা বলেন। সে সময় বৃত্তি চালুর ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন বিশ্বব্যাপী ‘প্রতিবেশী কূটনীতির রোল মডেল’ হিসেবে পরিচিত। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যেসব ভারতীয় ভাই জীবন উৎসর্গ করেছেন, রক্ত দিয়েছেন আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। জীবন উৎসর্গকারী সেসব সাহসী বীরকে স্মরণ করা আমাদের জন্য গর্বের। সেসব বীরকে অভিবাদন।’

বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণদের নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মনে করি, অতীতের নেতাদের মতো উভয় দেশের তরুণদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করা প্রয়োজন এবং দুদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। কারণ তারাই ভবিষ্যতের নেতা। সীমান্তের দুই পাড়ের নেতাদের মধ্যে অবশ্যই ঘনিষ্ঠতা থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বীর যোদ্ধাদের বংশধররা তাদের পূর্বপুরুষদের মতো বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের দূত হিসেবে কাজ করছে। নতুন প্রজন্মকে আশীর্বাদ করে সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করি। তারা আগামী ৫০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে বন্ধুত্বের মশালকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আমাদের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে যোগ দিয়েছিলেন।’ এসব উপলক্ষ উদযাপনে বেশকিছু যৌথ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসবের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধী এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ, বঙ্গবন্ধু-বাপুজি ডিজিটাল প্রদর্শনী প্রভৃতি।’ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণাধীন বায়োপিক ‘মুজিব : দ্য মেকিং অব দ্য নেশন’-এর কাজ চলছে। শিগগির তা মুক্তি পাবে। বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে ৬ ডিসেম্বরকে ‘মৈত্রী দিবস’ হিসেবে উদযাপন করছে, যে দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন, সেদিন ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ যৌথ উদযাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ভালো প্রতিবেশীকে তুলে ধরেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা আমাদের বিদেশি বন্ধুদের সম্মান জানাতে বাংলাদেশ সরকার একটি কর্মসূচি শুরু করেছে। আমরা সৌভাগ্যবান’। ২০১১ সালে প্রথম সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান করতে পেরেছিলাম, বিদেশি বন্ধুদের সর্বোচ্চ  বেসামরিক পুরস্কার ‘বাংলাদেশ ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড’ দিতে পেরেছি, যা ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভারতের আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জিসহ ভারতীয় নেতাদের আরও পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোট ৩৪০ জন বিদেশি নাগরিক এবং সংস্থাকে সম্মানিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২২৬ জনই ভারতের।’ তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ ও গুরুতর আহত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের উত্তরসূরিদের হাতে বৃত্তি তুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয়দের সম্মান জানাতে মুজিব স্কলারশিপ ফর ওয়ার ভেটারেনস ফ্যামিলি নামের বৃত্তি চালুর ঘোষণা  দেন।

শুরুতে এ কর্মসূচির আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে ১০০ ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১০০ করে মোট ২০০ শিক্ষার্থীকে এ বৃত্তি দেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে যথাক্রমে এককালীন ৫০০ এবং ১ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে।

সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আজ রাজস্থানের খাজা গরিব নওয়াজ দরগাহ শরিফ, আজমির (আজমির শরিফ দরগাহ) পরিদর্শন করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে রাতেই ঢাকায় ফিরবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সোমবার চার দিনের সফরে ভারতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত