বাংলাদেশ চীনা ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে এমন ধারণা সঠিক নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীনা ঋণ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বাংলাদেশ।
সালমান রহমান বলেন, জিডিপির অনুপাতে ঋণের বিচারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে। সরকারের বাণিজ্যিক ঋণ খুবই কম। শ্রীলঙ্কা প্রচুর পরিমাণ বাণিজ্যিক ঋণ নিয়েছে, বাংলাদেশ সেদিকে যায়নি। এমনকি বাংলাদেশের সভরেন বন্ডও নেই।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দেশ আর্ন্তজাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য 'সভরেন বন্ড' ইস্যু করে থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘চীন কিছু প্রকল্পে নমনীয় ঋণ দিয়েছে এবং বাংলাদেশ তা ব্যবহার করছে। অনেকে মনে করেন, পদ্মা সেতু চীনের অর্থায়নে নির্মিত। যা একেবারেই সঠিক নয়। পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ সরকারের অর্থায়নে তৈরি। আর্ন্তজাতিক দরপত্রে অংশ নিয়ে চীনা ঠিকাদার পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে। এটি একটি বাণিজ্যিক বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের শুধু বাংলাদেশের বাজারকে বিবেচনা করা উচিত হবে না বরং নিজদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাজারের ব্যাপারেও চিন্তা করতে হবে। এর কারণ, বাংলাদেশ এখন সড়ক, রেল এবং নদীপথে যোগাযোগ এবং সংযুক্তির বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ফলে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশ অনেক বড় বাজার হতে পারে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকনোমিক পার্টনারশিপ চুক্তি (সেপা) বিষয়ে তিনি ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ‘সেপা’ কার্যকর হবে। নীতিগতভাবে বাংলাদেশ এ চুক্তি সইয়ে আগ্রহী। তবে এ নিয়ে নেগোসিয়েশন শুরুর আগে অনেক কাজ করতে হবে।’
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে সমস্যা মোদি সরকারের আমলে নিষ্পত্তি হবে। উভয়পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’
