ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়ল দুর্গাসাগর দিঘির ফটক

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৮ এএম

বরিশালের বাবুগঞ্জের মাধবপাশার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘি চত্বরে ঢোকার নির্মাণাধীন ফটকের ওপরের অংশ (ছাদ) ধসে পড়েছে। এ সময় ছাদ ঢালাইয়ের কাজে থাকা শ্রমিকদের দুজন আহত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারা কাজ করায় ছাদটি ধসে পড়ে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

আহত শ্রমিকদের মধ্যে আনিসুর রহমান নামে একজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অপরজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নির্মাণকাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানায়, গতকাল সকাল থেকে দুর্গাসাগর দিঘির পশ্চিম প্রান্তে নির্মাণাধীন ২২ ফুট উঁচু প্রবেশ ফটকের ওপরের অংশে (ছাদ) ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ ফটকের একাংশের ছাদ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা আহত দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দুর্ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঝালকাঠির মেসার্স খান বিল্ডার্সের কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঢালাইকাজ চলাকালে সেখানে ছিলেন। কিন্তু ছাদ ধসে পড়ার পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আহত শ্রমিক আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফটক নির্মাণের কাজ চলছিল। আমি মাঝখানে ছিলাম। হঠাৎ করে ভেঙে পড়েছে। আমিসহ আরও একজন আহত হয়েছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে মাসুম বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান বিল্ডার্স। প্রবেশপথের ফটক ঢালাই দেওয়ার সময় তা ভেঙে পড়ে। এতে দুজন আহত হতে দেখেছি।’

ছাদ ধসের কারণ জানতে চাইলে গণপূর্ত প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, ‘ফটকটি অনেক উঁচুতে। উল্টোপাল্টা ঢালাই দেওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে আমি গিয়েছিলাম। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফটকটি নির্মাণে ত্রুটি রয়েছে কি না সেটি আমরা দেখছি।’

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বলে জানান বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার।

বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুব্রত বিশ্বাস দাস জানান, দুর্গাসাগরের উন্নয়নে ১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে এবং প্রবেশপথের ফটক তারই একটি অংশ। তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান বিল্ডার্স এই কাজটি করছিল। এখানে কারও গাফিলতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ছাদ ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গৌতম বাড়ৈ। তিনি জানান, এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির দুই সদস্য হলেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুব্রত বিশ্বাস দাস এবং গণপূর্ত প্রকৌশল অধিদপ্তরের এসডি।

গৌতম বাড়ৈ বলেন, ‘কেন রডসহ ঢালাই ধসে পড়ল সেটা তদন্ত করা হবে। কেউ দোষী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত