পিবিআই প্রধানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪১ এএম

হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন স্ত্রী হত্যা মামলায় কারাবন্দি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. জেবুন্নেছা বেগমের আদালতে বাবুলের পক্ষে তার আইনজীবী কামরুল ইসলাম চৌধুরী সাজ্জাদ এ আবেদন করেন। আদালত ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানির দিন ঠিক করেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফখরুদ্দিন চৌধুরী।

পিবিআই প্রধান ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসপি নাজমুল হাসান, মেট্রোর এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক ও বর্তমানে নগরীর খুলশী থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা, পিবিআইর তৎকালীন পরিদর্শক ও বর্তমানে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (পাহাড়তলী জোন) একেএম মহিউদ্দিন সেলিম এবং পিবিআইর জেলা পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

আইনজীবী কামরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাবলু আক্তারকে গত বছর ১০ থেকে ১৭ মে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ও জেলা কার্যালয়ে হেফাজতে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। মামলায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারা দেওয়া হয়েছে।’

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১০ মে সকাল পৌনে ১০টা থেকে ১৭ মে সকাল ১০টা পর্যন্ত মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে পিবিআই মেট্রো ও জেলা কার্যালয়ের রুমে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে (বাবলু আক্তার) হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার কথা স্বীকার করতে বনজ কুমারের নির্দেশে আসামিরা তাকে নিষ্ঠুর নির্যাতন করে বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাবুলের স্ত্রী মিতুকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। স্ত্রী নিহতের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এদিকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের করা মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। প্রায় দেড় বছর পর গত বছর ১১ মে বাবুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। পরদিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুলকে প্রধান আসামি এবং তার সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ ভোলাসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু ও শাহজাহান মিয়া।

পরে পিবিআই হেফাজতে থাকা বাবুল আক্তারকে ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে বাবুল কারাগারে আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত