আইস কিউব ফেসিয়াল

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২১ এএম

গরমে ত্বক কখনো টানটান, কখনো তেলতেলে। ত্বকের যখন এমন অবস্থা, তখন বেছে নিতে পারেন আইস ফেসিয়াল। এই ফেসিয়াল ত্বকচর্চায় জাদুকরী প্রভাব আনে। জানালেন বিউটি ব্লগার নাহিন ইসলাম

বরফ ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় কয়েকশ গুণ। যার ফলে ত্বকে সতেজতা বাড়ে। ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র ছোট করে, রোদে পোড়াভাব কমায়, ত্বকের চুলকানি ও ফোলা ভাব দূর করে। চোখের নিচের কালো দাগও চলে যায়।

আইস ফেসিয়াল কী

আইস ফেসিয়াল ক্রায়োফেসিয়াল হিসেবেও পরিচিত। এটা এক ধরনের কোল্ড থেরাপিও বলা যায়। ক্রায়োফেসিয়ালের ত্বক এক্সফোলিয়েশন এবং পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে। তাই দিন দিন আইস ফেসিয়াল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ধরনের ফেসিয়াল দক্ষ হাতের মাধ্যমেই করতে হবে। না হলে ত্বকে বরফপোড়া, পিগমেন্টারি পরিবর্তন, স্নায়ুর ক্ষতি এবং এমনকি ফোসকা পড়ার ঝুঁকি থাকে।

কীভাবে করবেন

আইস ফেসিয়াল শুধু বরফের কিউব ব্যবহার করে করতে পারেন। আইস কিউব ট্রেতে পানি দিয়ে তা ফ্রিজে রেখে বরফ বানিয়ে মুখে ব্যবহার করুন। মনে রাখতে হবে বরফ সরাসরি মুখে ব্যবহার করা যাবে না। পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে পেঁচিয়ে ব্যবহার করতে হয়। বরফ ছাড়াও বিভিন্ন জিনিস মিশিয়ে আইস কিউব বানিয়ে ব্যবহার করা যাবে। বরফের সঙ্গে শসার রস ও গোলাপ জল মিশিয়েও আইস কিউব বানানো যায়। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে একটি আইস কিউব সার্কুলার মোশনে পুরো মুখে ঘষবেন ততক্ষণ, যতক্ষণ পর্যন্ত না বরফ টুকরো গলে যায়। কিউবের সঙ্গে কমলার রস, লেবুর রসও মেশানো যাবে। তবে জানতে হবে আপনার ত্বকের সঙ্গে কী মানায়। যতি তৈলাক্ত বা ব্রণ-প্রবণ ত্বক থাকে, তবে গ্রিন-টি ওয়াটার আইস কিউব, অ্যালোভেরা আইস কিউব এবং গোলাপ জলের আইস কিউব ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। দুধ এবং মালাইভিত্তিক আইস কিউব শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকার।

উপকারিতা

আইস ফেসিয়াল রোদে পোড়া এবং ত্বকের প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। চোখের নিচের অংশ ও চারপাশ যাদের ফোলাভাব থাকে তারা এ ধরনের ফেসিয়াল করলে ফোলাভাব কমে যাবে। যাদের মুখের পোরস (লোমকূপ) বড় হয়ে যায় তারা এ ধরনের ফেসিয়াল করলে খোলা ছিদ্র সংকুচিত হয়। মেকআপ করার আগে প্রাকৃতিক ত্বক প্রাইমার হিসেবেও আইস কিউব ফেসিয়াল করে নিতে পারেন। এ ছাড়া এয়ারব্রাশ মেকআপ ফিনিশিং ব্যবহার করার আগে ত্বক আইসিং করে নিলে ভালো হবে।

সতর্কতা

আইস ফেসিয়াল করার সময় হাত ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। যে আইস টুকরো দিয়ে ফেসিয়াল করবেন, তা যেন বিশুদ্ধ পানিতে তৈরি হয়। ফেসিয়াল করার সময় একবারে ১০ মিনিটের বেশি বা সপ্তাহে তিনবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বক আইস বার্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। আইস কিউব ফেসিয়াল করার জন্য বয়সের কোনো ভেদাভেদ নেই। তবে আপনার যদি অ্যাজমার সমস্যা থাকে বা ঠা-ায় অ্যালার্জি হয়, অবশ্যই এ ফেসিয়াল বাদ দেবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত