মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরের কাথুলি মোড় এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়।
তাসনিম ঊর্মি (২৩) ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঊর্মির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঊর্মিকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেছে তার পরিবার, সহপাঠী ও গাংনীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা গতকাল বিকেলে শহরে মানববন্ধন করে হত্যাকারীর বিচার দাবি করেছে।
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ঊর্মি। তার স্বামী আশিকুজ্জামান প্রিন্স গাংনী পৌর এলাকার কাথুলি মোড়ের শফিউল ইসলাম হাসেমের ছেলে। প্রিন্স কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। তাদের ঘরে ১৩ মাস বয়সী ছেলে রয়েছে।
ঊর্মির বাবা গোলাম কিবরিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তার বেয়াই শফিউল ইসলাম ফোন দিয়ে জানান, ঊর্মি অসুস্থ তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে গেলে সেখানে ঊর্মির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বেয়াইয়ের কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে বলেন, ঊর্মি ঘরের জানালার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। অথচ হাসপাতালে ঊর্মির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
শফিউল ইসলাম হাশেম বলেন, ‘আমার ছেলে, নাতি এবং বৌমা একঘরে ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ নাতির কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এই সময় ছেলে বৌমাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। তারপর ঘরের লাইট জ¦ালিয়ে খোঁজাখুঁজি করে দেখি বৌমা পাশের ঘরের জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে পড়ে আছে।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বৌমার আচরণ খুবই ভালো ছিল। ছেলের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল। এমন ঘটনা ঘটার কথা নয়। তারপরও এই ঘটনায় ছেলে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে।’
গতকাল সকাল ৭টার দিকে পুলিশ ঊর্মির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তার ফেইসবুক পেইজ ঘেঁটে দেখা যায়, সর্বশেষ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সবাই কিন্তু গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে না। আত্মহত্যা করার উপায় সবার আলাদা। কেউ পছন্দের খাবার খাওয়া ছেড়ে দেয়। কেউ তার খুব পছন্দের মানুষকে ছেড়ে দেয়। কেউ বিশ^াস করা ছেড়ে দেয়। কেউ গান গাওয়া ছেড়ে দেয়। কেউ ছবি তোলা, কেউ লেখা, কেউ স্বপ্ন দেখা, কেউ ভালবাসা, কেউ ভালবাসা স্বীকার করা ছেড়ে দেয়।’
গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ঊর্মির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে, এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যার ঘটনা।
ওসি জানান, বিকেলে ঊর্মির শ^শুর এবং স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঊর্মির সহপাঠী এবং গাংনী চিৎলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুবাইয়ের রহমান জানান, ঊর্মি সংস্কৃতিমনা ও মুক্তচিন্তার মেয়ে ছিল। প্রেম করে বিয়ের পর ঊর্মির মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগে করে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হয়তো জানালার সঙ্গে ফাঁস ঘটনার নাটক সাজানো হয়েছে।’ ঊর্মির স্বামী তার ওপর নির্যাতন করতেন, এমন কথা ঊর্মির বিভিন্ন সময়ের কথোপকথনে ইঙ্গিত পাওয়া যেত বলে জুবাইয়ের দাবি করেন।
