ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল আরোহী মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে দেড় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম সিজান। এ ছাড়া মোটরসাইকেলে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় শিশুটির মা শান্তা খাতুন ও নানা আবুল কালাম আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কালীগঞ্জের এই দুর্ঘটনা ছাড়াও গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে আরও আটজনের। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে গতির প্রতিযোগিতায় নেমে প্রাণ গেছে তিন তরুণের, কুমিল্লার দেবীদ্বারে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা স্কুলশিক্ষক ও তার নাতি এবং চট্টগ্রামের চন্দনাইশে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে অটোরিকশাটির চালক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আব্দুল গনি রোডে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
কালীগঞ্জে নিহত সিজান ওই উপজেলার শিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের ছোট শিমলা গ্রামের শিহাব উদ্দীনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শিশুটির নানার মোটরসাইকেলে করে তার মা চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। কালীগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে একটি পিকআপ ভ্যান পেছন থেকে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে মায়ের কোল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যায় শিশুটি। এরপর ওই পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে ধাওয়া করে পিকআপটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যান তারা। কালীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল রহিম মোল্লা জানান, পিকআপ জব্দ এবং এর চালককে আটক করেছে পুলিশ।
মোটরসাইকেল রেসে প্রাণ গেল তিন তরুণের : কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে গতির প্রতিযোগিতায় নেমে প্রাণ গেছে তিন তরুণের। গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বটতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরেক তরুণ।
নিহত তিনজন হলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার জুগিয়া এলাকার সলেকের ছেলে জুয়েল হোসেন (২০), কুমারগাড়া এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে রাহুল (২৩) এবং শওকত হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন (২২)। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বিপ্লবকে (২০) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, গতকাল রাতে ঝিনাইদহ থেকে ৮-১০টি মোটরসাইকেল চালিয়ে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন একদল তরুণ। দ্রুতগতিতে চালানোর প্রতিযোগিতায় নামেন তারা। বটতৈল এলাকায় দুটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।
দেবিদ্বারে দাদি-নাতির মৃত্যু : কুমিল্লার দেবিদ্বারে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা স্কুলশিক্ষক ও তার নাতি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরও তিন সদস্য ও অটোরিকশাটির চালক। গতকাল দুপুরে দেবিদ্বার পৌর এলাকার সাইলচর কোড়েরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দেবিদ্বারের ধামতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাজেরা বেগম ও তার পাঁচ বছরের নাতি আবির হোসেন। তাদের বাড়ি পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে।
স্থানীয়দের বরাতে মিরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. কামাল উদ্দিন জানান, দুপুরে দেবিদ্বারের বড়শালঘর এলাকা থেকে একই পরিবারের পাঁচজন অটোরিকশায় করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার পাশের গাছে গিয়ে ধাক্কা লাগে। পরে স্থানীয়রা গিয়ে চালক ও যাত্রীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে হাজেরা ও আবিরের মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাজেরার স্বামী বজলুর রহমানকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চন্দনাইশে অটোরিকশাচালক নিহত : চট্টগ্রামের চন্দনাইশে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশাটির চালক নিহত হয়েছেন। তার নাম মো. রিয়াদ বিন জয় (২৫)। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের সামনের এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
নিহত অটোরিকশাচালক রিয়াদ চন্দনাইশের বরমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাইনজুরী এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। আহত তিনজন বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার এসআই সুমন রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানের চালক পালিয়ে গেছে।
রাজধানীতে প্রাণ গেল দুজনের : রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোররাত ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ীতে নীরব (৩৪) নামে এক ব্যক্তি এবং সকাল ৭টার দিকে শাহবাগের আবদুল গনি রোডে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী (৩৫) নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও পথচারীরা জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই তাদের দুজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই ওসমান আলী জানান, ভোররাত ৪টার দিকে ভাঙা প্রেস ময়লার রাস্তায় কোনো একটি যানবাহন ধাক্কা দেয় নীরব নামে এক ব্যক্তিকে। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে যান।
নিহতের বাড়ি ভোলার লালমোহনে। থাকতেন যাত্রাবাড়ীর কাজলা উত্তরপাড়ায়। তার বাবার নাম মফিজুল ইসলাম।
শাহবাগ থানার এসআই মো. আরাফাত জানান, সকাল ৭টার দিকে আবদুল গনি রোডের ক্রসিংয়ে কোনো যানবাহনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় নারী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ওই নারী ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধিরা
