মানবাধিকার সংস্থার ‘গুমের’ তালিকায় থাকা ৩৫ জনের বিষয়ে সরকার খোঁজ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘তারা (মানবাধিকার সংস্থা) গুমের কথা বলে হাজার হাজার। আমরা বললাম তালিকা দেন। এরপর মানবাধিকার সংস্থা থেকে তালিকা এলো ৭৬ জনের। পরে দেখা গেল এর মধ্যে ১০ জন বিএনপির অ্যাক্টিভিস্ট, যারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জ্বালাও-পোড়াওর সঙ্গে জড়িত। আবার একজনকে দেখা গেল জেলে রয়েছেন। আরেকবার শুনলাম ৬০০ জন গুম হয়েছে। তাই আমি এর ডিটেইল চাই।’
গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান ও নিরাপত্তা: ভিশন ২০৪১’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের প্রধানসহ কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাবুল আক্তারের নির্যাতনের অভিযোগ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাবুল আক্তার অত্যন্ত চতুর মানুষ। কাজেই সে কখন কী বলে সেটা তার ব্যাপার। এখানে আমার মন্তব্য নেই। তদন্তের পরেই সব চলে আসবে।’
পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সেমিনারের উদ্বোধক বক্তা ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুন্নী সাহা প্রমুখ।
সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সূত্র দিয়ে বলা হয়, গত ৫ বছরে দেশে ২ হাজার ৮০৩টি হিন্দু বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন। এখানে আমরা সবাই বাঙালি, সেই চেতনা ধারণ করে এগিয়ে চলছি। তবে দু-এক জায়গায় অসংগতি যে হয়নি তা বলব না।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) কেন সংখ্যালঘুর কথা বলেন আমার জানা নেই। এখানে আমরা সবাই একসঙ্গে চলি। তাই সংখ্যালঘু বলবেন না। যদি এটি বলতেই থাকেন তাহলে আমরা ব্যথিত হই।’
ভূমি দখলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ভূমি দখলের কথা বললেন, এর সঠিক ফিগারটা আমার জানা নেই। তবে আপনাদের কাছে আমি এর বিস্তারিত চাই। কোথায় কার দ্বারা কবে, ঘটনার বাদী-বিবাদী ডিটেইল চাই। আমি দেখব কেন বিচার হয়নি, কেন প্রতিকার হয়নি?’
সেমিনারে পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করে আয়োজকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে বিস্তারিত তালিকা দেবেন।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেন, কীভাবে তাদের এগিয়ে যেতে হবে সেই পথনকশা দিলেন। ফলে নারীরা আজ সবক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে চলছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে আলোকিত বাংলাদেশের লক্ষ্যে পৌঁছাবে। নারীদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।
মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি প্রসঙ্গ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দু-একটি গোলা বাংলাদেশের আমাদের সীমান্তের কাছাকাছি এসে পড়েছে। আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমাদের বিজিবি তাদের বিজিপির কাছে প্রতিবাদ করেছে। রাষ্ট্রদূতকে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মেসেজ দেওয়া হয়েছে, সবকিছু বলা হয়েছে। আমরা মনে করি, শিগগিরই এর সমাধান হবে। তাদের গোলা যেন এদিকে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য আমরা তাদের বলেছি।’
বাবুল আক্তার প্রসঙ্গ: সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘সাবেক এসপি বাবুল আক্তার যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো বাস্তবসম্মত কিনা, তা তদন্ত হলেই বোঝা যাবে। পিবিআইয়ের ওপর আমাদের ভরসা আছে। পিবিআই যতগুলো অনুসন্ধান করেছে সবই বাস্তবসম্মত এবং তারা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এগুলো করেছে। ৩০ বছর আগের খুনের মামলারও তারা আসামি চিহ্নিত করেছে এবং গ্রেপ্তার করেছে। পিবিআই ভুল করবে না বলে আমার বিশ্বাস।’
তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তারের বিষয়টা যেহেতু পিবিআইয়ের কাছে তদন্তাধীন, তাই তদন্ত শেষ করার আগে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় তাকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পিবিআই। কয়েক দিন আগে তিনি নির্যাতনের অভিযোগ এনে আদালতে মামলার আবেদন করেন।
