ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নানা কর্মকাণ্ডে সংক্ষুব্ধ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির বড় একটি অংশ। এমন প্রেক্ষাপটে জয় ও লেখকের ‘বিভিন্ন অনিয়মের’ তথ্যসংবলিত লিখিত অভিযোগপত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিতে চেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির ওই নেতারা। তারা গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার কাছে সিলগালা করা অভিযোগপত্রটি হস্তান্তর করতে চাইলেও তিনি তা নেননি।
অভিযোগকারী নেতারা জানান, অভিযোগপত্রটি তারা এখন ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের চার নেতার কাছে হস্তান্তর করবেন।
এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সভানেত্রীর কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। দপ্তর সম্পাদক দলের মনোনয়ন বোর্ডের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমরা ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। তবে উনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের আরেক সহসভাপতি কামাল খান বলেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনিয়মের কোনো সীমা নেই। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই মাস পরপর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাধারণ সভা হওয়ার কথা, কিন্তু সেখানে জয়-লেখকের পুরো তিন বছর মেয়াদে মাত্র একটি সভা হয়েছে। সাধারণ সভা না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ মূলত অকার্যকর। সাধারণ সভা হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা যেত।’
জয়-লেখকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আগস্টের শুরুতে পাঁচটি জেলা ইউনিটের নতুন কমিটি ও দুটি জেলা ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে মন্দির ভাঙার অপরাধে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত একজনকে কমিটিতে পদায়ন করা হয়। বরগুনা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। যোগ্যদের মূল্যায়ন না করে নিজেদের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সম্মেলন আসন্ন বিধায় গঠনতন্ত্রের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে একের পর এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কমিটির সম্মেলন থেকে ফেরার পথে মাদকসহ বিজয়নগর থানা পুলিশ ছাত্রলীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দুজন সহসভাপতিকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দরপত্র ঘিরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে সংগঠনের ওই সময়ের সহসভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দুই শীর্ষ নেতাকে ‘ভারমুক্ত’ করে পূর্ণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
