থানা লুট-পুলিশ হত্যা

যাবজ্জীবন সাজার আসামি ৩২ বছর পর গ্রেপ্তার

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০০ এএম

নাটোরের গুরুদাসপুর থানায় ঢুকে অস্ত্র লুট ও পুলিশের কনস্টেবলকে হত্যা করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে ৩২ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার নাম সাইফুল ওরফে মানিক (৫৬)। তিনি একটি গোপন বামপন্থি দলের নেতা।

গত শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে মানিককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩ এর একটি দল।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, মানিক ১৯৮৪ সালে চরমপন্থি নেতা তারেকের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা গ্রুপে যোগ দেন। সর্বশেষ তিনি নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ এলাকায় ছাত্তার নামে শ্রমিক সরদার হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৮ সালে মানিক তার নাম পরিবর্তন করে সাইফুল প্রধান নামে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ভোটার হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করেন। ১৯৮৭ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি নাটোরের গুরুদাসপুর থানায় হামলা চালায় লাল পতাকার সশস্ত্র একটি দল। তারা থানার কনস্টেবল হাবিবুর রহমানকে খুন করে তাদের দলের একজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় ও অস্ত্র লুট করে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েক ব্যক্তিকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় ওইদিনই হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। এ মামলার তদন্ত শেষে জড়িত অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ৪৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০০৭ সালে মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে যাবজ্জীবন সাজা হয় মানিকের। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতির মামলাসহ আরও ৪টি মামলার তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, থানা লুটের পর মানিক তার বাড়িতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন। ১৯৮৮ সালে তারেকের নেতৃত্বে চাটমোহর থানার খোতবাড়ি এলাকার মাঠে প্রতিপক্ষ আরেকটি দলের ১২ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তারেকসহ তার দলের সদস্যরা চাটমোহর থেকে আত্মগোপন করে সিরাজগঞ্জে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তারা তাদের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে মানিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। ১৯৯০ সালে মাঝামাঝি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবারও হত্যা, লুটপাট, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন করে ত্রাস সৃষ্টি, অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেওয়াসহ নানা অপকর্মে জড়ান।

এসময় তারেকের সঙ্গে নৌকায় বিলের মধ্যে অবস্থান করতেন মানিক। দলের কার্যক্রম শেষে তারা আবারও সশস্ত্র অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় নৌকার মধ্যেই জীবনযাপন করতেন। ২০০৪ সালে চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে তারেকের নির্দেশে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। তখন মানিক রাজধানীতে চলে আসেন। কিছুদিন বাসচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ট্রাকে মালামাল ওঠানো-নামানোর শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেন তিনি। এরপর নারায়ণগঞ্জে তার এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। ওই আত্মীয় তাকে একটি গার্মেন্ট কারখানায় চাকরি দেন এবং সবার কাছে তাকে ছাত্তার নামে পরিচয় করিয়ে  দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান স্তিমিত হলে তারা আবার মাঝে মাঝে এলাকায় গিয়ে দলীয় কার্যক্রম চালাতে থাকেন। ৭-৮ বছর আগে চরমপন্থি দলের অন্তর্দ্বন্দ্বে তারেক নিহত হলে মানিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে  দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত