সরকারের জনসমর্থন না থাকায় যেনতেন নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন মাতামাতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। তিনি বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনে পরাজিত হলে সার্বিকভাবে পরাজিত হবে, অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
গতকাল শনিবার দুপুরে জাপা চেয়ারম্যানের রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে দলের পলাশ উপজেলার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জিএম কাদের। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাপা নেতা এ এন এম রফিকুল আলম সেলিম।
জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই দায় এড়াতে বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে। কখনো বলছে রাজনৈতিক দলগুলো সহায়তা না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। আবার কখনো বলছে, কাউকে নির্বাচনে নেওয়া নির্বাচন কমিশনের কাজ না। তাদের বুঝতে হবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই বলেই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যেতে চাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের উচিত সবার আস্থা অর্জনে চেষ্টা করা।
নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ ও তাদের কিছু মিত্র ছাড়া কেউই নির্বাচনে ইভিএম চায়নি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করেই ইভিএমে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের মানুষ নির্বাচনে ইভিএম চায় না। আর এসব কারণেই দেশের মানুষ নির্বাচনের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
জিএম কাদের বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ করা হয়েছে। আবার ভোটের সময় পোলিং বুথে আওয়ামী লীগের কর্মী নিয়োগ দেওয়া থাকে, তারা সহায়তার নামে ইভিএমে ভোটারদের ভোট দিয়ে দেন। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।
এ ছাড়া দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, এখন সাধারণ মানুষের মালিকানা ছিনতাই হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষই হচ্ছেন দেশের মালিক, তারা ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। আবার প্রতিনিধি অপছন্দ হলে আবার ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিবর্তন করতে পারবেন। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষের মালিকানা ছিনতাই হয়ে গেছে। দেশের মানুষ এখন আর প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন না।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও জাহাঙ্গীর আলম পাঠান। সভায় উপস্থিত ছিলেন জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল হামিদ ভাসানী, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন খান, ইউসুফ আজগর প্রমুখ।
