ডলারের এক দর নির্ধারণ

রেমিট্যান্সে সর্বোচ্চ ১০৮ রপ্তানিতে ৯৯ টাকা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৭ পিএম

কয়েক মাসের অস্থিরতার পর অবশেষে ডলারের এক রেট নির্ধারণ করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা)। সংগঠন দুটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলো আজ সোমবার থেকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে প্রতি ডলারের জন্য সর্বোচ্চ দাম ১০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর রপ্তানি আয় নগদায়ন করতে হবে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকা দামে। আমদানির ঋণপত্র নিষ্পত্তিতে প্রতি ডলারের দাম ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা।

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এক সভায় এ দাম নির্ধারণ করেছেন। নতুন এ দাম আজ সোমবার থেকে কার্যকর হবে। ডলারের চাহিদা ও জোগান পর্যালোচনা করে প্রবাসী আয়, রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে দাম নির্ধারণের জন্য এ সভায় মিলিত হন এবিবি ও বাফেদার শীর্ষ নেতারা। সোনালী ব্যাংকের মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা হয়।

সংগঠন দুটির এ সিদ্ধান্তের ফলে রেমিট্যান্সে ১০৮ টাকা দরের সঙ্গে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা আড়াই শতাংশ যোগ হবে। এতে করে প্রবাসীরা প্রতি ডলার রেমিট্যান্সে পাবেন অতিরিক্ত ২ টাকা ৭০ পয়সা। ফলে প্রবাসীরা প্রতি ডলারে পাবেন ১১০ টাকা ৭০ পয়সা।

সভায় বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম, এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বাফেদা ও এবিবির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব ব্যাংকে ডলারের দাম হবে এক। ব্যাংকগুলো নিজেরাই এ দাম নির্ধারণ করবে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল নিজেরা সভা করে ডলারের দাম ঠিক করেছেন বাফেদা ও এবিবির নেতারা।

সভা শেষে বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাজারে যেন অসম প্রতিযোগিতা না থাকে সে জন্য আমরা সব ক্ষেত্রে ডলারের একক রেট নির্ধারণ করে দিয়েছি। আমরা পর্যালোচনা করে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের এক্সচেঞ্জ হাউজসহ সমগোত্রীয় সব প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সে বিনিময় হার হবে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা। সব অথরাইজড ডিলার ব্যাংককে এটা মেনে চলতে হবে। রপ্তানি নগদায়ন হবে ৯৯ টাকায়। সোমবার থেকে এ রেট কার্যকর করা হবে।’

সভা শেষে এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘সময়ে সময়ে এ দাম পরিবর্তন হবে। আশা করছি এর মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীল ফিরে আসবে। বর্তমানে ডলারের যে দাম, সেই অনুযায়ী নতুন দাম নির্ধারণ হয়েছে। ফলে এর চেয়ে বেশি দাম বাড়ার কারণ নেই। বাজারভিত্তিক এ দাম বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যালোচনা ও তদারকি করবে। তবে দাম নির্ধারণ হবে বাজারের ওপর ভিত্তি করেই।’

সভায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয় কোনো ব্যাংক এ দর না মানলে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না জবাবে আফজাল করিম বলেন, ‘এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। আমরা আশা করছি এটা সবাই মেনে নেবে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকও সহযোগিতা করবে। আমাদের লক্ষ্য একটি স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রা বাজার তৈরি করা।’

আমদানি বেড়ে যাওয়া ও আশানুরূপ প্রবাসী আয় না আসায় দেশে ডলারের চরম সংকট সৃষ্টি হয়। ব্যাপক চাহিদার কারণে দিন দিন বাড়তে থাকে ডলারের দাম। দফায় দফায় টাকার অবমূল্যায়ন করে এক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ডলার ৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৫ টাকা নির্ধারণ করলেও কোনো ব্যাংকই তা মানেনি। এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর কাছ থেকে প্রবাসী আয়ের ডলার উচ্চদরে কিনে তা আমদানিকারকদের কাছে আরও বেশি দরে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নেয় ব্যাংকগুলো। এতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ডলার সংকটের সুযোগ নিয়ে আমদানিকারকদের কাছে প্রতি ডলারের দর ১১৫ টাকাও নিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্যের দাম কমলেও ডলারের বাড়তি দামের কারণে এর সুফল পায়নি দেশ। উচ্চমূল্যেই সব ধরনের পণ্য কিনতে হয়েছে জনসাধারণকে। এদিকে সংকটের কারণে গত আগস্টে খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২০ টাকায় উঠে যায়। যদিও পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে তা কিছুটা কমে এখন ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভও ৩৭ বিলিয়নে নেমে এসেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১৭৩ কোটি ডলারের বিল পরিশোধের পর গত বৃহস্পতিবার রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭০৬ কোটি ডলার (৩৭ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার)। গত বছরের শেষের দিকে রিজার্ভ ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

বাফেদা ও এবিবির এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করেই ডলারের দর নির্ধারণ হবে। বাফেদার ঘোষণা করা দর বাংলাদেশ ব্যাংককে জানালে তা গ্রহণ করা হবে এবং ব্যাংকগুলো তা অনুসরণ করছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত