নীতি সুদহার বাড়ানোর পক্ষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২০ পিএম

দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার বাড়াতে হবে। তা না হলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে, হুন্ডি বাড়বে। গতকাল রবিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বিশে^ মূল্যস্ফীতির হার না বাড়লে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমতে পারে।

ড. শামসুল আলম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি যদি না বাড়ে এবং আমাদের আমন ধান উঠলে, শাকসবজির উৎপাদন ভালো হলে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। আউশ মৌসুমে প্রত্যাশার তুলনায় তিন লাখ টন কম চাল উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়া বোরো মৌসুমেও বন্যার কারণে ফলন কম হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিরূপ পরিস্থিতি। ভারত চালের শুল্ক বাড়িয়েছে। সব মিলে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’ তবে চালের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আমাদের নীতি সুদহার বাড়াতে হবে। তা না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ ছাড়া রেমিট্যান্স হুন্ডির মাধ্যমে আসা বন্ধ করতে হবে। সরকারি চ্যানেলে এলে রিজার্ভ বাড়বে।’

জাতিসংঘ প্রতিনিধি গোয়েন লুইসের সঙ্গে আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্যসংক্রান্ত নানা সুযোগ-সুবিধা কমে আসবে। সে ক্ষেত্রে আমরা স্টাডি করেছি। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অ্যাকশন প্ল্যান আছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি, ভারত, নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের মধ্যে বিবিআইএন বাস্তবায়ন করা হবে। তাহলে বাাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। প্রকল্প তৈরিতে বেশি সময় লাগার বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধি জানতে চেয়েছেন। এর জবাবে আমরা জানিয়েছি, যেকোনো প্রকল্প নিতে হলে যাচাই-বাছাই করেই নিতে হয়। বৈদেশিক অর্থায়ন থাকলে সেটি ইআরডির মাধ্যমে আবারও যাচাই করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কিছু সময় লাগে। এরপর পরিকল্পনা কমিশনে এলে আরও কিছু যাচাই-বাছাই হয়। ফলে প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ করতে বছরখানেক সময় লেগে যায়।’

এ সময় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রকল্প দ্রুত প্রক্রিয়াকরণে অটোমেশনের পরামর্শ দেন তিনি। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে এলসিজি গ্রুপগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত