বিদায়যাত্রায় রানী ১৯ সেপ্টেম্বর শেষকৃত্য

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪৮ এএম

স্কটল্যান্ডে দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রিয় বালমোরাল প্রাসাদ থেকে রানীর কফিনবাহী গাড়িবহর রওনা দিয়েছে। গন্তব্য স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ। এরপর ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বিশেষ উড়োজাহাজে মঙ্গলবার লন্ডনে পৌঁছাবে রানীর মরদেহ। আগামী ১৯

সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ হবে রানীর চিরবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রবিবার স্কটল্যান্ডের স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে রানীর চিরবিদায়ের যাত্রা শুরু হয়। রাজকীয় পতাকায় মোড়া কফিনবাহী গাড়িবহর ধীরগতিতে ১৮০ মাইল পথ পাড়ি দেয়। পথে এবারডিন, ডান্ডি ও পার্থের রাস্তার দুধারে ফুল দিয়ে, পতাকা হাতে রানীকে শেষ বিদায় জানান তার ভক্তরা।

গাড়িবহর এডিনবার্গে পৌঁছানোর পর আজ সোমবার পর্যন্ত তার মরদেহ হলিরুডহাউস প্যালেসের সিংহাসন কক্ষে রাখা হবে। এরপর সেন্ট জাইলস ক্যাথেড্রালে মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য রানীর কফিন রাখা হবে এবং সবাইকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর মঙ্গলবারেই রাজকীয় উড়োজাহাজে রানীর কফিন নেওয়া হবে লন্ডনে। বাকিংহাম প্যালেস বিবিসিকে বলেছে, এই যাত্রায় প্রিন্সেস অ্যানি রানীর সঙ্গী হবেন।   

শুরুতে রানীকে রাখা হবে বাকিংহাম প্যালেসে। বুধবার প্রাসাদ থেকে সামরিক কুচকাওয়াজের সঙ্গে শোভাযাত্রার মাধ্যমে রানীর কফিন ওয়েস্টমিনস্টার হলে নেওয়া হবে। রাজপরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। এখানে রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকতার পর জনগণকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের প্রাচীনতম অংশ ওয়েস্টমিনস্টার হলটি এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। দ্বিতীয় এলিজাবেথের আগের রাজা-রানীদের কফিনও এই হলের মাঝখানে উঁচু বেদিতে রাখা হয়েছিল। এই বেদিতে ১৯১০ সালে সপ্তম এডওয়ার্ড, ১৯৩৬ সালে পঞ্চম জর্জ, ১৯৫২ সালে ষষ্ঠ জর্জ এবং তার এক বছর পরে কুইন মেরির কফিন রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ব্রিটেনের সফল প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের কফিনও ১৯৬৫ সালে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এখানে রাখা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী চার দিন রানী এখানেই বিশ্রামে থাকবেন।   

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া:

ওয়েস্টমিনস্টার হলে কয়েক দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সেখান থেকে স্বল্প দূরত্বের পথ ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে রানীর মরদেহ নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যজুড়ে সেদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন নতুন রাজা তৃতীয় চার্লস।   

এই অ্যাবি একটি ঐতিহাসিক গির্জা, এখানেই ব্রিটেনের রাজা-রানীর মাথায় মুকুট পরানো হয়। ১৯৫৩ সালে এই গির্জাতেই রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের অভিষেক হয়েছিল। এর আগে ১৯৪৭ সালে প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে তার বিয়েও হয়েছিল এখানেই। 

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, রানীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজপরিবার এবং রাষ্ট্রপ্রধানরা লন্ডনে আসবেন। শেষকৃত্যের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকা শুরু হবে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায়। সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে হল থেকে রানীর কফিন বের করা হবে, রাজপরিবারের সদস্যরা কফিনের সঙ্গে হেঁটে অ্যাবিতে যাবেন। এসব আনুষ্ঠানিকতা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ২ মিনিটের নীরবতা পালিত হবে।

রানীকে শেষ বিদায় জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, জাপানের সম্রাট, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বনেতারা লন্ডনে যাবেন বলে জানা গেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত