থামছে না গোলাগুলি আতঙ্ক বাড়ছে সীমান্তবাসীর

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:১০ এএম

কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, বাইশপাড়ি, ওয়ালিদম এলাকায় চলছে মিয়ানমার বিদ্রোহী আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক গোলাগুলি। প্রায় প্রতিদিন গোলাগুলির কারণে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। গতকাল রবিবারও সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলেছে। মাঝেমধ্যে বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে সীমান্তের কয়েক কিলোমিটার এলাকা। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে  সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্ত পিলার ৩৬-এর বিপরীতে আনুমানিক তিন কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের বিজিপির সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে প্রতিদিনই গোলাগুলি এবং মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্তে লোকজনকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার জন্য বলা হয়েছে। ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, দুদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার থেকে ফের গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। আজও (রবিবার) সারা দিন ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে আতঙ্কে আছেন সীমান্তের বাসিন্দা ও রোহিঙ্গারা।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছার ইমন বলেন, এখনো আমাদের কারও কোনো ক্ষতির খবর পাইনি। তবে স্থানীয়রা ভীষণ আতঙ্কে আছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা ফেরদৌস বলেন, দুদিন বন্ধ থাকার পর সীমান্তের ওপারে আবারও গোলাগুলির শব্দ হচ্ছে। আমরা সীমান্তের সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি এবং প্রতিনিয়ত খবর রাখছি।

এর আগে ২৮ আগস্ট মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে তুমব্রু উত্তরপাড়ায় ও মসজিদের পাশে দুটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। এরপর রেজু আমতলী ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মধ্যখানে ১২০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান থেকে গোলা এসে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বরও তুমব্রু সীমান্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি গোলা এসে পড়ে। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সতর্কও করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত