সাজেদা চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকায় শোকের ছায়া

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:০৭ এএম

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে তার নির্বাচনী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

রবিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সহকারী একান্ত সচিব মো. শফি উদ্দিন সাংবা‌দি‌কদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শফি উদ্দীন বলেন, গুরুতর অসুস্থ সৈয়দা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ২৮ আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিসিইউ) রাখা হয়েছিল।

সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুর খবরে তার নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে নগরকান্দা ও সালথা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সব জানিয়েছেন।

গভীর শোক জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি, ফরিপুর চেম্বার অব কমার্স, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফরিদপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর হোসেন, সাবেক সংসদ শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, ফরিদপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কাজী জাফর উল্লাহসহ দলীয় নেতা কর্মী ও বিশিষ্টজনেরা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এক শোকবার্তায় বোয়ালমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এম মোশারফ হোসেন মিয়া জানিয়েছেন, বর্ষীয়ান এই রাজনীতি কের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শুধু নরকন্দা সালতা বা ফরিদপুরবাসী নয় সারা দেশ একজন রাজনৈতিক অভিভাবক হারিয়েছে। এই ক্ষতি অবশ্যই পূরণ হবার নয়।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ইশতিয়াক আরিফ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ভাবে যে কোন সমস্যায় আমরা আপার কাছে ছুটে যেতাম এবং তিনি অভিভাবকের ন্যায় সুপরামর্শ দিতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের ৭৫ পরবর্তী সময়ে দলকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে আপার ভূমিকা অপরিসীম ছিল যা আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত তারা কখনো ভুলবে না।

নগরকান্দা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের অসুস্থতার কারণে সম্প্রতি তার নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর সোমবার এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই রোববার মধ্যরাতে চলে গেলেন তিনি।

সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মাতা সৈয়দা আছিয়া খাতুন।

শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর তার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন।

সাজেদা চৌধুরী ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেসকো ফেলোশিপপ্রাপ্ত হন এবং একই সময়ে বাংলাদেশ গার্ল-গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক সনদ সিলভার এলিফ্যান্ট পদক লাভ করেন। তিনি ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক ওমেন অব দি ইয়ার নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

রাজনৈতিক জীবন: ১৯৫৬ সাল থেকে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত৷ ১৯৬৯–১৯৭৫ সময়কালে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক, ১৯৭২-১৯৭৬ সময়কালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন।

তিনি ফরিদপুর-২ আসন (নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুর) থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এ অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত