মাদ্রিদ মাস্টার্সে রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জকোভিচকে হারিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন কার্লোস আলকারাজ। টেনিসের নতুন ‘পোস্টার বয়’ ভাবা হচ্ছিল তাকে। তা যে ভুল নয় তা প্রমাণ করলেন এই স্প্যানিয়ার্ড সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে। নিউ ইয়র্কে রবিবার ফাইনালে ১৯ বছর বয়সী আলকারাজ ৬-৪, ২-৬, ৭-৬ (৭/১), ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন ক্যাসপার রুডকে। এই জয়ের ফলে সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে র্যাংকিংয়েরও শীর্ষে উঠলেন আলকারাজ।
প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের পর আলকারাজ জানালেন তিনি ক্ষুধার্ত আরও শিরোপার জন্য। ‘এই মুহূর্তটা উপভোগ করছি। হাতে শিরোপা নিয়ে ভালোই লাগছে। আমি আরও শিরোপা জিততে চাই। অনেক অনেক সপ্তাহ শীর্ষে থাকতে চাই। আরও বেশি করে পরিশ্রম করতে হবে।’
বছরে পঞ্চম শিরোপা জিতলেন আলকারাজ। তবে মিয়ামিতে প্রথম শিরোপা জয়ের পরই তার মনে হয়েছিল এ বছর গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতবেন। কিন্তু ফ্রেঞ্চ ওপেনে কোয়ার্টার ফাইনালে এবং উইম্বলডনে চতুর্থ রাউন্ডে হেরে যান। শেষ পর্যন্ত বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে এসে তার সে স্বপ্ন পূরণ হলে ট্রফি হাতে বলেছেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন একদিন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতব, নাম্বার ওয়ান হব। সেই স্বপ্নপূরণ হলো। আমার পরিবার, আমার দলের সঙ্গে যে কঠোর পরিশ্রম করেছি, তারই পুরস্কার এই ট্রফি। আমার বয়স স্রেফ ১৯। কঠিন সব সিদ্ধান্তগুলো তাই আমার পরিবার ও দলই নিয়ে আসছে। এই ট্রফি আমার জন্য সত্যিই খুব, খুবই স্পেশাল।’
ইউএস ওপেন জয়ের পথে আলকারাজ পাঁচ সেটের ম্যাচ খেলেছেন তিনটি। সময় লেগেছে ১৩ ঘণ্টার বেশি। সব মিলিয়ে শিরোপা জিততে ২৩ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট সময় নিয়েছেন তিনি, যা এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ সময় কোর্টে কাটানোর রেকর্ড।
শেষ ১৬-তে বিদায় নেওয়া নাদাল টিকে থাকলে সেমিফাইনালে আলকারাজের সঙ্গেই খেলা পড়ত তার। স্প্যানিশ উত্তরসূরিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন সর্বাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার মালিক, ‘র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠা এবং প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের জন্য অভিনন্দন। আমি নিশ্চিত তুমি আরও অনেক শিরোপা জিতবে।’
