মেট্রোরেলে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা। আর ন্যূনতম ভাড়া ২০ টাকা। মেট্রোরেলের এ নির্ধারিত ভাড়াকে অনেক বেশি অভিহিত করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে মেট্রোরেলের যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তা দিয়েও সংস্থাটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উঠবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনা সচিব রশীদ-আল-মামুন।
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমন মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা সচিব। তিনি বলেনছেন, যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উঠবে বলে মনে হয় না। বরং মেট্রোরেল চালাতে ভর্তুকি দিতে হতে পারে।
একই প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে মেট্রোরেলের ভাড়া আর কমানো সম্ভব নয়। মেট্রোরেলের নির্ধারিত ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের ভাড়া বেশি বলে আমি মনে করি না। কারণ এ প্রকল্পের মেইনটেন্যান্স কস্ট অনেক বেশি। তাই সেই ব্যয় মেটাতে হলে এর চেয়ে কম ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।’
মতিঝিল থেকে কমলাপুর বাড়তি অংশ যোগ করায় কিছুদিন আগে ব্যয় বেড়েছে মেট্রোরেল প্রকল্পের। এ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্প ব্যয় ১১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
এদিকে গতকাল একনেক সভায় প্রায় ৮ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকার ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৫ হাজার ৯২৯ কোটি এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। একনেক সভায় এ ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী প্রবাসীদের ‘হিরো’ বলে মন্তব্য করেন। রেমিট্যান্স বাড়ায় অর্থনৈতিক চাপ কমে, এই স্বস্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ কৃতিত্বের হিরো হচ্ছেন প্রবাসীরা।’
এমএ মান্নান বলেন, মূল্যস্ফীতির মূল কারণ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। বিশ্ববাজারে জ¦ালানি তেলের দাম কমায় দেশের বাজারেও সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেন তিনি। অক্টোবরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি কমার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কৃচ্ছ্রসাধনে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে ডলারের ওপর চাপ কমেছে। এ ছাড়া একনেক সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনার আগে জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশও দেন সরকারপ্রধান।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী ভারত, ভুটান, নেপাল এবং পূর্ব প্রান্তে মিয়ানমার ও চীনের কুনমিং শহরের অবস্থান। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের সড়কপথে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, বৈঠকে কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া (ধরখার) জাতীয় মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটিসহ ৮ হাজার ৭৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে আর ২ হাজার ৮১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে জোগান দেওয়া হবে।
বাকি প্রকল্পগুলো হচ্ছে ‘বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮০৯) বরিশাল (চারকাউয়া) থেকে ভোলা (ইলশা-ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প; এতে ব্যয় বাড়ছে ১৮৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ‘চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত); ব্যয় বাড়ছে ১ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। ‘ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) মিটফোর্ড কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল ও বগুড়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্প; ব্যয় ২১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ‘মাশুরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্প; ব্যয় ধরা হয় ৯৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ‘আখাউড়া-আগরতলা-ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে ব্যয় বাড়ানো হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সচিব মো. আবু হেনা মোরশেদ জামান।
