রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪ দেশের সামরিক কর্মকর্তারা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:১৬ এএম

বাংলাদেশের সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ২৪ দেশের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সড়কপথে তারা কুতুপালং আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে যান। সেখানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার সঙ্গে কথা বলেন সেনা কর্মকর্তারা।

আশ্রয়শিবিরে পাঁচ বছর ধরে সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গার জীবনমান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নিরাপত্তাএসব নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছুদ্দৌজা। এরপর সেনা কর্মকর্তারা একাধিক রোহিঙ্গা নেতার সঙ্গে কথা বলেন। কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থী রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি, পাঁচ বছর আগে সেখানে সংঘটিত গণহত্যা-নিপীড়নের ঘটনা এবং বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান।

এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ২৪টি দেশের সেনা কর্মকর্তারা কক্সবাজারে সাগরপাড়ের একটি হোটেল অনুষ্ঠিত সেমিনারে অংশ নেন। ২৪টি দেশের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর যৌথ আয়োজনে চার দিনব্যাপী ৪৬তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিজ ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (আইপিএএমএস) বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কক্সবাজারের এই সেমিনারে অংশ নেন। সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে সামরিক কূটনীতি’। এতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান জেনারেল চার্লস এ ফ্লিনসহ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। এই সম্মেলন এ অঞ্চলের স্থলবাহিনীগুলোর মধ্যে বৃহত্তম সমাবেশ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংলাপ ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও বাড়ানো।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন। ইন্দো প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট হলো এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সেনা কর্মকাণ্ড, যা ইন্দো-প্যাসিফিক আঞ্চলিক স্থলবাহিনীর জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতৃত্বের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে মতামত ও ধারণা বিনিময়ের জন্য একটি ফোরাম। আইপিএএমএসের উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংলাপ, বন্ধুত্বের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বাংলাদেশ তৃতীয়বারের মতো এই সেমিনারের সহ-আয়োজক। এর আগে ১৯৯৩ এবং ২০১৪ সালে এই ইভেন্টের সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত