সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে নন অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৯ এএম

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশে^র বেশিরভাগ দেশ সুদের হার বাড়াচ্ছে এবং এটিকেই মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে দেশে চাপ থাকলেও সুদ হার বাড়ানোর পক্ষে নন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন অবস্থানের কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশেও ঋণ ও আমানতের সুদহারের সীমা তুলে নেওয়া হবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারে যে ৯ ও ৬ শতাংশের যে সীমা আরোপ করা আছে, সেটা আপাতত তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। কারণ বাংলাদেশে সুদহারের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন। এ জন্য সরকার আর্থিক ও মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ঋণ ও আমানতের সুদহারে যে সীমা আরোপ করা আছে, তা চলতে থাকবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করার চিন্তা করছি। আজ অথবা আগামীতে আমরা কিন্তু বাজারভিত্তিক লেনদেনে যাব। এতদিন যেভাবে বৈদেশিক মুদ্রার প্রাইস ঠিক করে দিতাম, সেভাবে বেচাকেনা হতো। এখন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে যেভাবে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা হয় বাংলাদেশেও সেভাবে হবে।

২০২০ সালের এপ্রিলে সরকারের নির্দেশনায় ব্যাংক খাতে সুদের হার ৯ ও ৬ শতাংশ কার্যকর করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ^জুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে দেশে গত মাসে সরকার হঠাৎ জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ায়, যা মূল্যস্ফীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এরপর থেকেই সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সাধারণত ঋণের সুদের হার বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে এবং মানুষের হাতে টাকা কম থাকে। তখন ভোক্তাদের ভোগব্যয় কমে যায়। বিশ্বে এভাবেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে সুদের হার বাড়ানো হয়।

ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) গত ২২ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকে গাড়ি ও বাড়ির ঋণে সুদের হার বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আবেদন করে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএ) একটি প্রতিনিধিদলও সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে সুদের হার বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়ে গেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। দেশে রপ্তানি বেড়েছে, আমদানি কমেছে, রেমিট্যান্সও বেড়েছে। সম্প্রতি এক বছরে সর্বোচ্চ ২৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিলাম আমরা। এর অর্থ হলো মাসে ২ বিলিয়ন ডলার করে এসেছিল। এখন আবার রেমিট্যান্স প্রতি মাসে গড়ে ২ বিলিয়ন ডলার করে আসতে শুরু করেছে। ফলে আগে যেভাবে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, সেটি আবার হবে।

গত বছর করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছিল। এরপর থেকে উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের দেনা পরিশোধের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে।

এদিকে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ৯ লাখ টন চাল কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৯০ হাজার টন সার কেনার প্রস্তাব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২ কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১৫ হাজার টন মসুর ডাল কেনা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সেল ডেটা কন্ট্রোলার মেশিন কেনার প্রস্তাবসহ ১৬টি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত