কখন গলগন্ড বা থাইরয়েড

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৩৭ এএম

সার্জারির দরকার হয়

মানবদেহে ঘাড় বা গলার সামনে নিচের দিকে প্রজাপতি আকৃতির গ্লান্ড বা গ্রন্থির নামই থাইরয়েড। মানুষের বৃদ্ধি, বিকাশ, শারীরবৃত্তিক আর বিপাকীয় নানা ক্রিয়া-প্রক্রিয়া সাধন করার জন্য এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাভাবিক অবস্থায় গলার শ্বাসনালির সামনে থাকা থাইরয়েড গ্লান্ডটি খালি চোখে দেখা যায় না। যখন থাইরয়েড গ্লান্ড ফুলে যায়, তখন গলার সামনে মাঝ বরাবর ঢোক গেলার সঙ্গে গ্লান্ডটিকে ওপর-নিচ ওঠানামা করতে দেখা যায়।

থাইরয়েড গ্রন্থি আকারে বৃদ্ধি পেয়ে গলার অগ্রভাগে ফোলা দেখা গেলে একে গলগন্ড বলে। এর কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আয়োডিনের অভাব, গ্রেভস ডিজিজ থাইরয়েডের সংক্রমণ এবং থাইরয়েডের টিউমার ইত্যাদি। তবে গলগ- থাকার মানেই এই নয় যে থাইরয়েড গ্রন্থি খারাপ বা এটি অপারেশন করে কেটে ফেলতে হবে। অনেকেই গলা ফোলা থাকলেই ক্যানসার বা টিউমারের ভয় করেন; সব গলগ-ই খারাপ নয়।

গলগন্ড হলে কী করবেন

গলগন্ড মনে হলে নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জনকে দিয়ে গলা পরীক্ষা করাবেন। প্রয়োজন ও সম্ভাব্য রোগের ধরন অনুযায়ী থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট অর্থাৎ রক্তের টিএসএইচ, ফ্রি-টিফোর, ফ্রি-টিথ্রি নামক হরমোনসহ অন্যান্য পরীক্ষা করাতে হবে। পাশাপাশি থাইরয়েডের আলট্রাসনোগ্রাফি দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া শরীরের যেকোনো জায়গায় টিউমারের মতো গলগন্ডের ক্ষেত্রেও এফএনএসি নামক পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে ক্যানসার হয়েছে কি না ধারণা পাওয়া যায়। পুরো বিষয়টা হলো ফাইন নিডল এসপিরেশন সাইটোলজি। অর্থাৎ কোনো টিউমার থেকে সুচের সাহায্যে রস বের করে পরীক্ষা করা হয়। টিউমারে কোনো ক্যানসার কোষ আছে কি না বোঝার জন্য এফএনএসি নামক টেস্ট করতে হয়।

কখন অপারেশনের প্রয়োজন

রোগীর লক্ষণ, গলগন্ডের আকার এবং এর কারণের ওপর চিকিৎসার প্রয়োজন ও ধরন নির্ভর করে। আকারে ছোট, চোখে পড়ে না এমন উপসর্গহীন নিরীহ ধরনের (ক্যানসার নয় এমন) গলগ-ের সাধারণত কোনো চিকিৎসার দরকার হয় না। সাধারণত নিম্নোক্ত কারণ বা উপসর্গ দেখা দিলে নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জনরা বিভিন্ন ধরনের থাইরয়েড সার্জারির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যেমন

           যদি অনেক বড় আকারের গলগন্ড- বা থাইরয়েড নডুউল থাকে, যা গ্লান্ডের পেছনে থাকা শ্বাসনালি, খাদ্যনালি, গলার স্নায়ু বা রক্তনালির ওপর চাপ প্রয়োগ করে এবং যার ফলে ঘাড়ের সামনে অস্বস্তিকর অনুভূতি, মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্ট, খাবার গিলতে অসুবিধা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন বা অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে।

           বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় থাইরয়েডের ক্যানসার ধরা পড়লে বা সন্দেহ হলে। কারণ থাইরয়েড ক্যানসারের ক্ষেত্রে অপারেশনের কোনো বিকল্প নেই।

           থাইরয়েড গ্লান্ড বড় হয়ে (বিনাইন টিউমার/নিরীহ টিউমার) যদি আপনার জীবনযাত্রার স্বাভাবিকতাকে ব্যাহত করে।

           রোগী গলগন্ডকে সৌন্দর্যহানির কারণ বলে মনে করেন।

            এ ছাড়া বেশি বড় হয়ে দেখতে যদি কুৎসিত বা অসুন্দর লাগে।

           যদি ক্যানসারের ধারণা করেন এবং শঙ্কিত হন, তাহলে চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই গলগন্ড হয়েছে বলে মনে করলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত একজন নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত